সমকালীন

আড্ডা

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৫২

‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই

কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো সেই

                                  আজ আর নেই’

মান্না দের গাওয়া সেই বিখ্যাত গানটি মনের কোণে প্রায়শই নাড়া দিয়ে ওঠে। কফি হাউজের আড্ডাটা একেবারে হারিয়ে না গেলেও স্থবির করে দিয়েছে মহামারি করোনা। আড্ডা মনের তৃষ্ণা মেটায়। মন প্রফুল্ল রাখতে আড্ডার বিকল্প নেই। আর আড্ডায় যদি প্রিয় মানুষের উপস্থিতি থাকে তবে তো সোনায় সোহাগা।

ক্লাসের ফাঁকে ভবনের করিডোরে, পাশের ক্যান্টিন কিংবা চায়ের দোকানে কিংবা কফিশপে আড্ডা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন চত্বর আড্ডায় ভরপুর থাকে হরহামেশা। আড্ডায় অনেক দীর্ঘ সময়কেও মনে হয় ক্ষণিক। সময় কীভাবে পার হয়ে যায় টেরই পাওয়া যায় না। এ তো গেল সাধারণ আড্ডার কথা। অনেকেই সন্ধ্যার পরে চায়ের টং দোকানে আড্ডা আর চায়ের চুমুকে হারিয়ে যায়। ভুলে যায় সারা দিনের ক্লান্তি, অবসাদ। নিমিষেই কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

অফলাইন আড্ডা অনলাইনে বন্দি করে দিয়েছে ক্ষুদ্র এক অণুজীব। যার নাম করোনা ভাইরাস। বৈশ্বিক এ মহামারির কারণে মার্চ থেকে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ের আক্রমণ পড়ে গেছে বাংলাদেশেও। এই সংকটময় মুহূর্তে স্থবির বন্ধুদের আড্ডা। মনের কোণে জমে আছে হাজারো অজানা অনুভূতি। করোনাকাল, ক্যাম্পাস বন্ধ—তাতে কী? আড্ডা তো আর বন্ধ রাখা যায় না। আড্ডাগুলো হয়ে পড়েছে স্মার্ট ডিভাইসবন্দি। কেউ মোবাইলফোনে, কেউ ল্যাপটপে, কেউ আবার কম্পিউটারের সামনে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিয়ে চলেছে।

অনলাইন আড্ডা অনেকটা দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর মতো। ধরা যাবে না, ছোঁয়াও যাবে না, মনের অজানা আবেগ-অনুভূতিও প্রকাশ করা যায় না ভালোভাবে। তবু অনেকটা ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো’ প্রবাদটির মতো।

আজাহার ইসলাম