ইয়াবা বাণিজ্যের সঙ্গে টেকনাফ থানার ওসির সংশ্লিষ্টতার তথ্য জেনে যাওয়ায় মেজর সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যা করা হয়। দিনটি ছিল ঈদুল আজহার আগের দিন ৩১ জুলাই, সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিট। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। তিনটি মামলার দুটি মাদক রাখার অভিযোগে এবং একটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে। এ নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় ৫ আগস্ট মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে পুলিশের নয় সদস্যকে আসামি করে কক্সবাজার আদালতে হত্যা মামলা করেন। পরদিন অভিযুক্ত সাত আসামি টেকনাফ থানার তত্কালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাস, বাহারছড়া ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, নন্দদুলাল রক্ষিত, লিটন মিয়া, সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
এই মামলাটি তদন্তভার ন্যস্ত হয় র্যাবের ওপর। র্যাব এই ঘটনায় টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস, বাহারছড়া পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৪ জনকে বিভিন্ন দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীকালে ১৩ ডিসেম্বর র্যাব কক্সবাজার আদালতে ১৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করে। অভিযুক্ত ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জন গ্রেপ্তার আছেন। এই মামলার আরেক আসামি পুলিশ কনস্টেবল সাগর দেব এখনো পলাতক।
ইয়াবা বাণিজ্যের সঙ্গে ওসি প্রদীপের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় মেজর সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ভ্রমণবিষয়ক ভিডিও তৈরির জন্য সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ কক্সবাজারে গেলেও সেখানে গিয়ে মাদক পাচারের তদন্তে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে ওসি প্রদীপের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে ওসি প্রদীপের সাক্ষাত্কার নিতে টেকনাফ থানাতেও গিয়েছিলেন সিনহা। মধ্য জুলাইয়ে টেকনাফ থানায় গেলে সিনহাকে হুমকি দেন প্রদীপ। তাকে দ্রুত কক্সবাজার ছাড়তে বলা হয়। বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ব্যবহার করে প্রদীপের ইয়াবা চোরাচালানের তথ্য জেনে গিয়েছিলেন সিনহা। প্রতিদিন কারবার হতো ৫০ লাখ টাকার ইয়াবা। মাদক কারবারের কথা কেউ ফাঁস করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা হলেই প্রদীপ তাকে হত্যা করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় মেজর সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
