পরিবর্তিত রূপে নতুন করোনা ভাইরাস

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২৩

পরিবর্তিত রূপে নতুন করোনা ভাইরাস, আতঙ্কে বিশ্ব। হঠাত্ করে করোনা মহামারির এই রূপ পরিবর্তন গোটা বিশ্বের জন্য বয়ে আনছে নতুন দুশ্চিন্তা। যার নতুন রূপ আগের চেয়েও ৭০ গুণ গতিতে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। আশঙ্কার সবচেয়ে বড় বিষয় নতুন রূপধারী এই করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার কোনো পদ্ধতি এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করা যায়নি। যার ফলে নতুন রূপ নেওয়া করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্যই যুক্ত হচ্ছে নতুন ভোগান্তি।

মিউটেশন বা পরিবর্তিত এই করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায় ব্রিটেনে। যার সূত্র ধরে নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে ব্রিটেনের সঙ্গে এখন পর্যন্ত ৪০টি দেশের বিমানপথে চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা ইউরোপ। সীমান্ত পথেও যোগাযোগ বন্ধ করেছে অনেক দেশ। ব্রিটেনের পর এবার অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইতালিসহ বেশ কয়েকটি দেশে নতুন রূপ ধারণ করেছে এই মহামারি। যা আমাদের জন্য অশনিসংকেত।

ব্রিটেনের ডাক্তাররা ধারণা করছে আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন দিয়ে হয়তো নতুন রূপ নেওয়া করোনা ভাইরাস মোকাবিলা সম্ভব হতে পারে। এ বিষয় নিয়ে বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন, যা নিয়ে গবেষকগণ বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। এখন প্রয়োজন যথাযথ সতর্কতা।

সাধারণ মানুষের কাছে নতুন রূপ নেওয়া করোনা ভাইরাসের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে হবে, যার ফলে সবার জীবনযাপনে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। আমাদের প্রাথমিকভাবে এই ভাইরাস মোকাবিলার জন্য নিজ জায়গা থেকে সচেতনতার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এখনো মানু্ষ করোনা ভাইরাসকে অর্থনীতির সাপেক্ষে খুব বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না। ব্যাবসায়িক বা নিত্যকর্ম সম্পাদনে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। অফিস-আদালতের ন্যায় সব ব্যাবসায়িক বা কর্মস্থলে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বাজারে রয়েছে নানা ধরনের মাস্ক যার অধিকাংশ কার্য-ক্ষমতাহীন। সুলভ মূল্যে মাস্ক বাজারজাত হলেও মানসম্পন্ন মাস্ক সবার হাতে পৌঁছাচ্ছে না। এ বিষয়টিও নজরদারিতে রাখতে হবে। করোনা থেকে প্রাথমিক রক্ষাকারী মাস্ক যার গুণগত মান এবং সঠিক ব্যবহার করোনা প্রতিরোধে বর্তমান সময়ে বেশি সহায়ক।

বর্তমান সময়ে ভাইরাস মোকাবিলার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অস্ত্র আত্মসচেতনতা। এর পাশাপাশি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে পরিবারের বয়স্কদের এবং ছোট সদস্যদের প্রতি। ঠান্ডাজনিত নানা রোগ প্রতিরোধে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিত্সা গ্রহণ করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হয়তো বড় ঝুঁকি মোকাবিলায় আমাদের সাহায্য করবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ