তারাগঞ্জে কমে যাচ্ছে দেশি মাছ

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৫০

তারাগঞ্জের হাটবাজারে দেশি মাছ অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাম শহরের মাছের বাজারগুলোতে একই অবস্থা। এক সময় বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছে গ্রামগঞ্জের হাটবাজারগুলো ভরে থাকত। জেলেদের জালেও তেমন দেশি মাছ ধরা পড়ে না। এসব মাছের মধ্যে রয়েছে কই, মাগুর, শিং, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, ডারকা, মলা, ঢেলা, চেলা, শাল চোপরা, শৌল, বোয়াল, আইড়, বাইম, খলিসা, ফলি, চিংড়ি, মালান্দা, খরকাটি, গজার, চেং, টাকি, চিতল, গতা, পোয়া, বালিয়া, কাকিলা, পোয়া, বৌরানীসহ মিঠাপানির বিভিন্ন প্রজাতি। দেশি মাছ কমে যাওয়ায় উপজেলার কাশিয়াবাড়ী, ঘনিরামপুর নদীরপাড়, নারায়ণজন, রহিমাপুর, চড়কডাঙ্গা গ্রামের একাধিক মত্স্যজীবী পরিবার এখন কষ্টে আছেন।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাংলায় পৌষ-মাঘ মাসে পুকুর, খাল, ডোবা, নালা-ঘোলার পানি কমতে থাকলে দেশি মাছ ধরার ধুম পড়ে যেত। এখন সেসব দেখা যায় না। বর্ষাকালে ধানের জমিতে কইয়া জাল, বড়শি ও চাঁই পেতে মাছ ধরার রীতিও হারিয়ে গেছে অনেক এলাকা থেকে। যারা এক সময় নদী, পুকুর, খাল-বিল, ডোবা-নালায় মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতেন, তাদের অনেকেই এখন বাজার থেকে চাষের মাছ কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়াও জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কারেন্ট জালের অবৈধ ব্যবহার, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, নদনদীর নাব্যতা হ্রাস, উজানে বাঁধ নির্মাণ, নদীসংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট করা, মা-মাছের আবাসস্থলের অভাব, ডিম ছাড়ার আগেই মা-মাছ ধরে ফেলা, ডোবা-নালা-পুকুর ছেঁকে মাছ ধরা, বিদেশি রাক্ষুসে মাছের চাষ ও মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটানোও মাছ কমে যাওয়ার কারণ। তারাগঞ্জ উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা শতাধিক। হাটবাজার, পুকুর, খাল-বিল কোথাও এখন আর মিঠাপানির সুস্বাদু সেসব মাছ মিলছে না। দেশি মাছের বদলে এখন বাজারে জায়গা করে নিয়েছে চাষের পাঙাশ, তেলাপিয়া, ক্রস ও কার্প জাতীয় মাছ।’