আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ভোট ডাকাতিতে বিএনপির রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দল আজ গণতন্ত্রের কথা বলে, নির্বাচনের কথা বলে। কিন্তু বিএনপি এক দিকে যেমন দেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছিল। আবার প্রথম সাংবিধানিক ধারা রহিত করে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত করে। তাই বিএনপির মুখে নির্বাচন আর গণতন্ত্রের সু-বচন মানায় না। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভোট ডাকাতিতে বিএনপি যে রেকর্ড করেছে তা কেউ ভাঙতে পারবে না।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নষ্ট করার লক্ষ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। তাদের আগুন সন্ত্রাসে শতশত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অনেকেই নাশকতার শিকার হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র উন্নয়নের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের আস্ফাালন আর সহিংস রাজনীতির কালো ছায়া কাটিয়ে গণতন্ত্রের নবতর অভিযাত্রায় অগ্রসর হয় বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ইভিএমে ভোট দিলে নাকি সব ভোট নৌকার বাক্সে চলে যায়; মন্তব্যকে অবান্তর আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, তাহলে কি নৌকার ভোট ধানের শীষে যাওয়ায় তাদের দুজন পৌর মেয়র জয়ী হয়েছেন?
বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, তবে আন্দোলনের নামে কোনো নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে জনগণের সম্পদ রক্ষায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিব হাসান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রানা, দপ্তর সম্পাদক প্রলয় সমাদ্দার বাপ্পি প্রমুখ।
