রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিরোধিতা না করে তাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে দৃশ্যমানভাবে কাজ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের আরো একটি দলকে ভাসানচরে নেওয়ার পর গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ঢাকার এই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি স্মরণ রাখতে হবে যে—রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। মানবিক কারণে বাংলাদেশ সাময়িকভাবে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে যেসব ব্যবস্থা করা হচ্ছে সেটা সম্পূর্ণরূপে সাময়িক। রোহিঙ্গারা তাদের নিজভূমে ফিরতে চায়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সবাইকে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে হবে। মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন হয়ে গেছে।
রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমার তৈরি করেছে এবং এর সমাধানও তাদের হাতে। এ কারণে বাংলাদেশের ওপর অযৌক্তিক ও অন্যায্য চাপ প্রয়োগ না করে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক এনজিও, মানবিক সহায়তা প্রদানকারী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উচিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম যে ভয়ানক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে, তার ওপর দৃষ্টি দেওয়া। জাতিসংঘের উচিত মিয়ানমারে থাকা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং সেখানে প্রত্যাবাসন প্রস্তুতি দেখার জন্য একটি কারিগরি ও সুরক্ষা দল পাঠানো।
বাংলাদেশ সরকার এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে পূর্বের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে এবং এক্ষেত্রে জাতিসংঘের অংশগ্রহণ বিষয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
