ভারত থেকে আরো ৫০ হাজার টন চাল ক্রয়সহ ছয় প্রস্তাব অনুমোদন

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:৩৭

ভারত হতে আরো ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল ক্রয়সহ মোট ৬টি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, সিদ্ধ চাল ক্রয়ে ১৬৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় হবে। পশ্চিম বঙ্গের বীরভূমের প্রতিষ্ঠান এমএসপিকে এগ্রিলিংক এই চাল সরবরাহ করবে। প্রতি কেজি চালের ক্রয়মূল্য হবে (কর ব্যতীত) ৩৩ দশমিক ৭২ টাকা। সভায় মোট ৯টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রারম্ভিক বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, করোনা পরিস্থিতি এখনো কেটে যায়নি। এর পরেও আশা করছি আগামী বছর বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো করবে। পৃথিবীর সব দেশের সার্বিকভাবে যেমন নিম্নগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে তেমনি সামষ্টিক অর্থনীতিও বিয়োগাত্মক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সবাই ধারণা করছে, এ বছর সারা বিশ্বে চার ভাগ কমে যাবে প্রবৃদ্ধি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নত বিশ্ব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এ বছর তুলনামূলক ভালো করেছে।

কমিটির বৈঠকে অর্থবছরে সিটি করপোরেশনসমূহের জন্য উইড হারভেস্টার ক্রয়ের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়েছে, নিয়মিত কচুরিপানা অপসারণ করার জন্য সিটি করপোরেশনসমূহের উইড হারভেস্টার জরুরি ভিত্তিতে ক্রয় করা প্রয়োজন। উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে ক্রয়প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ বিধায় জনস্বার্থে ১৭টি উইড হারভেস্টার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স ওয়ার্কস লি. হতে সরাসরি ক্রয়-পদ্ধতিতে ক্রয়ের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা প্রস্তাবের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ‘দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা (এডিবি ঋণ)। ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমান বন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের ক্রয়-প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার বিমান বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়) পূর্ত কাজের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এই প্রস্তাবে অর্থের পরিমাণ ৭০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

সভায় ১৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, কুমিল্লা জোন প্রকল্পের আওতায় টার্নকি ভিত্তিতে আটটি সাব স্টেশনের মানোন্নয়ন কাজ ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) প্রকল্পের আওতায় ১৮ হাজার ৫৬২টি এসপিসি পোল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুেকন্দ্রের ইউনিট ৪ ও ৫-এর মেরামত কাজ ক্রয়-প্রস্তাব এবং ঢাকা চট্টগ্রাম ৪ লেন মহাসড়কের দাউদকান্দি-চট্টগ্রাম অংশের দুটি প্যাকেজের পূর্ত কাজের পৃথক ক্রয়-প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে এগুলো আরো যাচাইবাছাই করার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।