চাঁদা না পেয়ে জাল টাকার মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০১

রাজধানীর পল্টনে একটি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার ও কর্মচারীকে ধরে নিয়ে গিয়ে জাল টাকার মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাদের আটক করে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের ওপর চালানো হয় নির্যাতন। পরে জাল টাকার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গ্রেফতারকৃতরা ছিলেন পুরানা পল্টনের ‘হোটেল বন্ধু’র ম্যানেজার হাসান মজুমদার ও ওই হোটেলের বাবুর্চি সোহেল রানা। তারা অভিযোগ করেছেন, হোটেল থেকে আটক করে তাদের অন্য একটি স্থানে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এমনকি আটকের সময় তাদের কাছ থেকে জাল টাকার নোটও মিলেনি। আটকের বিষয়টি হোটেলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে প্রমাণ রয়েছে।

ভুক্তভোগী দুই ব্যক্তি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সকাল সোয়া ১১টায় পুরানা পল্টনের ‘হোটেল বন্ধুু-এর তৃতীয় তলায় ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক তপন কুমার ঢালী ও এসআই দেওয়ান উজ্জ্বল হোসেনের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একটি টিম প্রবেশ করেন। তারা হোটেলের কাউন্টারে বাবুর্চি সোহেল রানাকে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাতকড়া পরিয়ে দেয়। হোটেলের ম্যানেজার হাসান মজুমদার বিষয়টি জানতে চাইলে তাকেও হাতকড়া পরিয়ে দেওয়া হয়।

ডিবির টিমটি এসময় হোটেলের সিসি ক্যামেরা দেখতে পেয়ে সেটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর তাদের হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে। সেখানে মতিঝিল জোনাল টিমের সহকারী কমিশনার জুয়েল রানা তাদের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করেন তারা। পরে এসআই দেওয়ান উজ্জ্বল হোসেন তাদের আরেকটি কক্ষে ডেকে নিয়ে বলেন, ৩ লাখ টাকা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে জাল টাকার মামলা দেওয়া হবে। ওই দিন রাতেই মতিঝিল থানায় পরিদর্শক তপন কুমার ঢালী বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার দেখিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয় যে, ৬ নভেম্বর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ফকিরাপুলের মাছ বাজারের পশ্চিম পাশের গলিতে রাস্তার ওপর অভিযান চালিয়ে তাদের ২৫ লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার করে। পরে এই মামলায় তাদের ২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আবারও ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেওয়ান উজ্জ্বল হোসেন।

এ ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি’র কাছে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের সিকিউরিটি সেলের এএসপি ওমর ফারুক ঘটনাটি তদন্ত করে মিথ্যা মামলা দায়েরের সত্যতা পান। তদন্ত রিপোর্টে মতিঝিল জোনাল টিমের পুলিশ সদস্যদের দায়ী করা হয়। ৫ মাস ২৭ দিন পর ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল তারা উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাদের আবার ডিবি অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি’র কাছে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের বলেন যে, অভিযোগ প্রত্যাহার করা না হলে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী হাসান মজুমদার বলেন, অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পল্টন থানায় একটি জিডিও করেন। পরে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এই মামলায় তাকেসহ সোহেল রানার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে গতকাল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেওয়ান উজ্জ্বল হোসেন বলেন, জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনার মামলাটি চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।