গহনার খোঁজে বিদেশি স্টলে নারীদের ভিড়

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০৪

বাহারি ইমিটেশন গহনায় সাজতে পছন্দ করেন বাঙালি ললনারা। তরুণীরা সালোয়ার-কামিজ বা ফতুয়া আর গৃহিণীদের চাই শাড়ির সঙ্গে গহনা। তাই হাল ফ্যাশনের এই যুগে সংসারে, পার্টিতে, ভ্রমণে কখন কোন পোশাক পরিধান করবেন তার সঙ্গে মিলিয়ে গহনাও কিনছেন নারীরা। আর এজন্য মেলার বিদেশি স্টলগুলোর দিকে ছুটছেন তারা। এসব স্টলের নানা বৈচিত্র্যের সব দৃষ্টিনন্দন ইমিটেশন গহনা সহজেই মন কাড়ছে। ক্রেতা আকৃষ্ট করতে বিক্রেতাদের জোর চেষ্টা। বিক্রেতা নিজেই বাহারি গহনায় সেজে পণ্য প্রদর্শন করছেন। বিক্রেতার সাজে সাজতে অনেকেই কিনে নিচ্ছেন গহনা। গতকাল মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। মেলার প্রধান গেট দিয়ে ঢুকে হাতের ডানের গলিতে বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলো চোখে পড়বে। প্রত্যেকটি প্যাভিলিয়নে ছোট ছোট স্টলে পণ্যের পসরা সাজিয়েছে বিক্রেতারা। মধ্যবয়সী নারী ও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা গেল গহনার স্টলে।

থাইল্যান্ডের তৈরি নানা পণ্যের পসরা বসেছে থাই প্যাভিলিয়নে। জুতা, ব্যাগসহ নানা অলঙ্কারকে ঘিরে নারীদের আকর্ষণ লক্ষ্য করা গেছে। বিক্রেতা সাব্বির রহমান জানান, থাই ব্যাগ, জুতা এবং অলঙ্কারের কদর আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে। আগেই তৈরি হয়েছে। জুতা ও ব্যাগের দাম চারশ টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা। কানের দুল ও গলার মালার দাম ?একশ টাকা থেকে হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে জবরুজ, ওপাল, নীলম ও আকিক পাথরের আংটি এবং দাম ১৫০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে মার্বেল, বাঁকা মার্বেল, মাহা, প্রিন্স, হোয়াইট মানি, বোরাক, তুফান, বুহা পুকারড নামের বিভিন্ন চুড়ি পাওয়া যাচ্ছে মেলার পাকিস্তানি প্যাভিলিয়নে। চুড়ির মূল্য প্রতি ডজন ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা। কাচের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের চুড়িও পাওয়া যাচ্ছে এখানে।

ইন্ডিয়ান প্যাভিলিয়নের স্টলগুলোতেও হরেক রকমের গহনায় মন কাড়ছে নারীদের। বিক্রেতারা জানান, ১শ থেকে ৪শ টাকা মূল্যের চুড়ি, ২শ থেকে ৩শ টাকা মূল্যের কানের দুল, ৫শ থেকে দুই হাজার টাকার গলার হার, ২শ থেকে ৫৫০ টাকা মূল্যের হাতের ব্রেসলেট মিলছে ইন্ডিয়ান প্যাভিলিয়নে। এছাড়া হাতের ঘড়িসহ নারীদের বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে এসব স্টলে।

স্টোনের চেইন, নূপুর, হাতের ব্রেসলেট, মুক্তার মালা, কানের দুল পাওয়া যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন কে জেট ফ্যাশন জুয়েলার্স প্যাভিলিয়নে। ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যেই এসব গহনা কিনতে পারছেন বলে জানান বিক্রেতারা। অন্যদিকে ইরানি প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাচ্ছে ইরানি পাথর, রুপা ও মুক্তা দিয়ে তৈরি নানা গহনা। এছাড়া রক্ত প্রবাল, রুবী, পান্না, গোমেদ, হীরা, নীলা, পোখরাজ, একোয়ামেরিন ও আকিক পাথরের আংটিতে সাজানো প্যাভিলিয়নের আরেকটি স্টল। ৪০০ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে পাথরের আংটি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা রায়হান। নারীর পাশাপাশি পুরুষরাও কিনছেন নানা রকমের গহনা। হাতের ব্যান্ড, ব্রেসলেট, গলার চেইন আজকাল তরুণদের কাছেও ফ্যাশন হয়ে উঠেছে।