বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব আজ এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখী যা মানুষ কখনো ভাবতে পারেনি। তবুও জীবন থেমে নেই। থেমে নেই মানুষের কাজকর্ম। সবই করতে হচ্ছে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতির মধ্য দিয়ে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় আশার কথা, পৃথিবীর বহু দেশ থেকে আমরা অনেক নিরাপদে আছি।
আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রথম প্রথম কিছুটা সমস্যা হলেও সরকারের দূরদর্শী ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে তা অনেকাংশে কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ হারাতে হয়নি। পাঠদান কার্যক্রমও অব্যাহত থেকেছে। নেয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। এরই মধ্যে সংসদ টিভিতে নিয়মিত ক্লাস, প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক অনলাইন ক্লাস সবই চালু রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ঘরে থাকার কারণে যাতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে না-পড়ে তাই বার্ষিক পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে প্রায় দেড় মাসজুড়ে চলেছে এ্যাসাইমেনট কার্যক্রম। ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের উপর কর্মদক্ষতাও বেড়েছে।
আসছে নতুন বছর। প্রতিবছর পহেলা জানুয়ারি একযোগে সারাদেশে বই উত্সব পালন করা হয়। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর আর তা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও সরকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে কীভাবে তাদের হাতে বই তুলে দেয়া যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শীঘ্রই তোমরা নতুন বই হাতে পেয়ে যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যালয়ও খুলে যাবে। আশা রাখছি, খুব দ্রুতই তোমরা বিদ্যালয়ে ফিরতে পারবে।
নতুন বই মানে অন্য রকম আনন্দ। আনন্দঘন এই সময়টাকে আরো খুশিতে ভরিয়ে তুলতে হবে। একদিকে বিদ্যালয়ে ফেরার বাড়তি চাপ নেই। বাসাটাই এখন তোমার আনন্দের জায়গা। বাবা-মা, ভাইবোন এরাই এখন তোমার পাঠসহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। তাদের সাহায্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। চোখ রাখতে হবে সংসদ টিভিতে। অংশগ্রহণ করতে হবে বিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাসে। এই সময়টায় অভিভাবকরা তার সন্তানের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হবেন। তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবেন। মনে রাখতে হবে, বাসা-বাড়ির চেয়ে বাচ্চারা খেলার মাঠ বা বিদ্যালয়ে থাকতে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। সেই প্রিয় জায়গাটিতে সে এখন ফিরতে পারছে না।
একটি নতুন বই হাতে পাওয়া মানে জ্ঞানের একটি নতুন জগতের সাথে নিজেকে পরিচিত করা। গত বছর তুমি যা পড়েছ এ বছর আর সে বিষয়টি থাকছে না। আর থাকলেও জ্ঞানের স্তর অনুযায়ী বেশ কিছু রদবদল থাকবে। এখান থেকে তুমি অনেক কিছু শিখতে পারবে। জানতে পারবে। নতুন বই প্রাপ্তির সেই উদ্যমতাকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। তোমার পড়াটা হতে হবে শুধু সময় কাটানোর জন্য নয়, বরং এখান থেকে কিছু শিখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পার সেই লক্ষ্যে।
বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রায় সব বিষয়ই তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটিতে। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সভ্যতা ও সংস্কৃতিসহ অন্যান্য সব বিষয়। মনে কর, তুমি অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটি পড়বে এক্ষেত্রে তোমাকে প্রথমে একটি অধ্যায় বেছে নিতে হবে। একটি অধ্যায়ে আবার একাধিক পাঠ রয়েছে। এখন তুমি তোমার ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী একটি বা দুটি পাঠ বেছে নাও। ভালো করে বারবার এই পাঠগুলো পড়ো। এবার তুমি নিজেই দেখ-এখানে যে বিষয়গুলো তোমাকে শেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে তা তোমার আয়ত্তে এসেছে কি না। যদি মনে করো কিছু জায়গা তোমার কাছে একটু কঠিন মনে হচ্ছে-তুমি ঐ জায়গাটা বারবার পড়ে নাও।
একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, পড়তে হবে আনন্দের সাথে। আর পড়ার আনন্দ তখনই পাওয়া যায় যখন পঠিত বিষয়টি তুমি ভালো করে বুঝতে পারবে। তুমি যা-ই পড়ো না কেন বুঝে পড়বে। তাহলে তোমার পড়াটা সার্থক হবে। আর তোমার মধ্যে বিকাশ হবে সৃজনশীলতার। এটাই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার মূল দর্শন।
লেখক : শিক্ষক ও গবেষক
