বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:১২

১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে মতিউর স্ত্রী-কন্যাদের পূর্ব পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেন। জানুয়ারির শেষ দিকে তিনিও এক মাসের ছুটি নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। ছুটি শেষ হলেও তিনি ১ মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন।

৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে পল্টন ময়দানের এক বিশাল সমাবেশে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেবেন বলে ঘোষণা দেন।  মতিউর রহমান সিদ্ধান্ত নেন ৭ মার্চের এই সভায় উপস্থিত থাকবেন এবং পরবর্তীতে ভেবে করণীয় ঠিক করবেন।

পশ্চিম পাকিস্তানিরা গোপনে পূর্বপাকিস্তানে সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে। অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ মজুদ করতে থাকে। ২৬ মার্চ শেখমুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

১৪ এপ্রিল ভৈরব, নরসিংদী, আশুগঞ্জ, রায়পুরা এলাকায় পাকিস্তান বাহিনি এফ ৮৬ স্যাবর জেট থেকে বোমাবর্ষণ শুরু করল। তিনি চিন্তা করলেন, যারা বোমা ফেলছে, তাদের মধ্যে নিশ্চয়ই তাঁর ছাত্র রয়েছে। তাঁর শেখানো বিদ্যা তাঁর দেশকে ধ্বংস করতেই কাজে লাগানো হচ্ছে। তিনি ভৈরব চলে গেলেন এবং ই পি আর এর সাথে মিলে প্রতিরোধ ব্যুহ তৈরি করলেন। তিনি আগেই অনুমান করে ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ায় বোমা বর্ষণে ক্ষয়ক্ষতি থেকেও রক্ষা পান। ২৩ এপ্রিল তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। অন্যান্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেন যুদ্ধে যোগ দিতে ভারত চলে যাবেন। কিন্তু তাঁকে নিরুত্সাহিত করা হলো। তিনি স্ত্রী ও কন্যাদের নিয়ে ৬ মে করাচি ফিরে গিয়ে চাকরিতে যোগ দিলেন। উদ্দেশ্য ভিন্ন।

মতিউর রহমানের ছাত্র প্রশিক্ষণার্থী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজকে তিনি ছুটিতে যাওয়ার আগে খানিকটা প্রশিক্ষণ দিয়ে গিয়েছিলেন। এখন মনে মনে ভাবলেন, সেই মিনহাজসহ তিনি একটি বিমান নিয়ে পালাবেন। এই ভাবনার কথা কাউকেই বললেন না, এমনকি স্ত্রী মিলি রহমানকেও না।

২০ আগস্ট ১৯৭১ শুক্রবার। সকাল ১১টায় টি-৩৩ বিমান নিয়ে মিনহাজের ওড়বার কথা। টি-৩৩ বিমানের সাংকেতিক নাম ব­ুবার্ড ১৬৬। মিনহাজ কন্ট্রোল টাওয়ারে ওড়বার অনুমতি চাইলে ডিউটিরত বাঙালি পাইলট অফিসার ফরিদউজ্জামান এবং পাকিস্তানি পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আসিম তাঁকে অনুমতিদিয়ে দেয়। মিনহাজ যখন ব­ুবার্ড ১৬৬ নিয়ে ২৭ নং রানওয়েতে ঢুকার জন্য ৪ নং ট্যাক্সি ট্র্যাক দিয়ে এগিয়ে টিলার আড়ালে যান, তখন মতিউর রহমান দ্রুত গাড়ি চালিয়ে ৪ নং ট্র্যাকে চলে গেলেন। মিনহাজকে সংকেত দিলেন ফ্লাই না করতে। প্রশিক্ষকের এই নির্দেশে ছাত্র থেমে গেল। ক্যানোপি উঠিয়ে ফ্লাই না করার নির্দেশের কারণ জানতে চান মিনহাজ। ক্যানোপি হচ্ছে পাইলটের বসার স্থানের ওপর স্বচ্ছ প্ল­াস্টিকের আবরণ। মতিউর দ্রুত ককপিটে উঠে পকেটে রাখা ক্লোরোফরম যুক্ত রুমাল দিয়ে মিনহাজকে অজ্ঞান করে ফেলেন।  জ্ঞান হারাবার আগেই মিনহাজ কন্ট্রোল রুমে এই খবর পৌঁছাতে সক্ষম হন।

                 পরের অংশ আগামীকাল