নতুন বছরের ‘চতুর্থ বিপ্লব’ প্রশ্নে

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০০

খুব কষ্টের বছর গেল। কষ্টে কিছু পার হোক, আমরা চাই না। কিন্তু অবিশ্বাস্য এবং অনিবার্য সময়ে সবটা নিয়তির ওপর ছেড়ে দিয়েই পাড়ি দিতে হয়। ২০২০ ছিল তাই। খুব দীর্ঘশ্বাস পড়ে। কাগজগুলো বন্ধ হওয়ার জোগাড়, বর্ষীয়ান কাগজ ‘ইত্তেফাক’ও সংকটে পড়ে। এসব ভাবা যায় না! তবুও ভাবতে হয়েছে। কাল গুনে সময় পার করতে হয়েছে। হয়েছে কোথায়—হচ্ছে—এখনো তো। প্রিয়জনরা ছেড়ে গেছেন অনেকেই। দেশের অনিবার্য কত মানুষ, চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। তারা স্বল্প পরিসরে বেরোনো দৈনিকের প্রধান শিরোনাম হয়েছেন। দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশে কত জন? এই আশ্চর্য অতিমারি আমাদের পুরো জীবনকে পালটে দিয়েছে। ২০২০ সালে সবকিছু একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ নিয়ে নানা মহলে নানা ব্যাখ্যা আছে। ‘নিউ ওয়ার্ল্ড’, লক ডাউন, মাস্কের বিশ্বে মানুষের অনুপ্রবেশ সিম্পল নয়, এর প্রভাব তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে নানা দিকে। এখন শুরু হচ্ছে ‘চতুর্থ বিপ্লব’। এ নিয়ে অনেক কথা আছে। হয়তো কথাগুলো পুনরাবৃত্তিও অনেকটা। কিন্তু ভাববার আছে অনেক কিছু। সম্প্রতি সরকার একপ্রকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চতুর্থ বিপ্লবের তাত্পর্যপূর্ণ প্রস্তুতি বিষয়ে। এটি জরুরি এবং সঠিক সিদ্ধান্ত, সন্দেহ নেই। কী সেটি?

কোভিড-১৯ দীর্ঘ বছর পরের মহামারি। আমরা বিশ শতকের প্রথম দিকে ইংলিশ ঔপন্যাসিক জ্যাক লন্ডন বা এদেশের শরত্চন্দ্রের লেখায় মহামারির কথা পাই। তারপর প্রকৃতিবিনাশী যে কাজ নিরন্তর আমরা জেনে বা না-জেনে করে চলেছি, আমাদের যান্ত্রিক বিশ্বের যে ব্যস্ততা, পুঁজি ও পণ্যের যে বেশুমার দাপট সেখানে—আমরা আসলে আমাতে ছিলাম না। মোহ, ভোগ, অজাচারে; বিচিত্র ব্যস্ততায় আমরা একধরনের পাশবিক ও মেশিনারিজ জীবন বেছে নিয়েছিলাম। প্রকৃতি ধ্বংস করে, নিসর্গ নষ্ট করে, প্রতিটি মুহূর্তকে যন্ত্রের মতো ব্যয় করে আমরা একরকম সমষ্টিগত বা পারিবারিক-সামাজিক জীবন থেকে প্রতিনিয়ত হচ্ছিলাম নির্বাসিত। সেখানে কোভিড এসে সবকিছু থামিয়ে দিল যেন। প্রকৃতি পেল নিঃশ্বাস নেওয়ার শক্তি, মানুষ পেল দম ফুরাবার অবসর। একইভাবে সে হয়ে উঠল ‘অনলাইন’ আবর্তের অনিবার্য প্রশিক্ষক, চর্চা-দক্ষ প্রশাসক। সেটি বেশ গুরুত্ব বহন করছে, এখন। সরকার প্রযুক্তির এই বিষয়টি নানাভাবে কাজে লাগিয়েছে। এখনো কর্মপ্রয়াসে লিপ্ত আছে। ফলে, শিক্ষা-সংস্কৃতি-যোগাযোগে সৃষ্টি হয়েছে নতুন প্রবাহ। এই প্রবাহটি আগে ছিল আড়ষ্ট, দুর্বল। সেটি সর্বত্র এখন তীব্র সঞ্চলন ঘটে চলেছে, গৃহীতও হয়েছে। বিশেষ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর কর্মযোগ নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে। এর কোনো যে বিকল্প নেই—সেটি যে-কেউ হোক অস্বীকার করবে না। সরকারের দক্ষতার বিপরীতে অদক্ষতাও যেন অনেক কিছু শিখিয়ে গেছে আমাদের। যেমন : স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা খাত, প্রযুক্তি খাত, বিজ্ঞানের সৃষ্টিশীলতার অগ্রসরতা প্রভৃতি সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি, দুর্বলতাগুলো প্রকাশ করতে পেরেছি। তারস্বরে চিত্কার করে আমরা বলতে পেরেছি, স্বাস্থ্য খাতের নাজুক পরিস্থিতির কথা। এই পরিস্থিতিতে আরো একটি শিক্ষণীয় হয়েছে, দেশে-বিদেশে—যে-ই হোক—ধনী-গরিবনির্বিশেষে—কারো রক্ষা নেই। অর্থ-ক্ষমতা সমাধান নয়। সিস্টেম বা কর্মদক্ষতা না থাকলে কেউ পার পাবে না। এই শিক্ষা কোভিডের। এটা কোনোকালেই আমাদের হয়তো প্রত্যক্ষ হতো না। সেটি এবার দৃঢ়দৃষ্টিতে অত্যন্ত প্রখরভাবে আমাদের সম্মুখে এসেছে। সুতরাং যারা চলে গেছেন, তারা রেখে গেছেন, কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা। সে অভিজ্ঞতা নিরুপায়—কিন্তু একপর্যায়ে তা সরকারি উদ্যোগে নানা কৌণিক পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও হয়েছে। বয়সের কারণে, অনিয়মের কারণে, শারীরিক নানাবিধ দুর্গতির কারণে—অনেকেই হয়তো কোভিডের কাছে পরাস্ত হয়েছেন—কিন্তু লিখে রেখে গেছেন অন্যরকম অভিজ্ঞতার কথা। সেটি কী? ব্যবস্থাপনা চাই। দেশেই চিকিত্সা চাই। সবাই মিলে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার দুর্জয় শক্তিটুকু চাই।

২.

আমাদের এসব ভূমিকা সামনের ২০২১-কে ঘিরে। হারানোর বিপরীতে এবার আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্ণ প্রস্তুতি ও তাগিদ তৈরি করেছি। তার পেছনে আছে পূর্ণ শক্তি। এই শক্তিটি কী? এ বছরই আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। চলছে মুজিবের শতবর্ষের কার্যক্রম। কী করতে হবে আমাদের? বিরোধিতা থাকবেই। তবে সেটি হোক সৃষ্টিশীলতার অংশ। সবাইকে নিয়ে চলার শর্ত। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার শক্তি। একটু আগেই বলেছি—‘চতুর্থ বিপ্লবে’র কথা। সেটি গুরুত্বপূর্ণ। এই মেশিনারিজ ওয়ার্ল্ড এখন অপ্রতিরোধ্য। নতুন প্রজন্ম সেটি গ্রহণ করবে। চিন্তা পালটাবে। রোবটের বিশ্বে অনেক কর্মমুখর জায়গাগুলো দখল করবে রোবট। তখন কি মানুষ বেকার হবে? মেশিনারিজ বিশ্বে সুইচ বা ডিটেক্টর যদি সব কাজ করে তবে মানুষ কোথায় যাবে? ইতিমধ্যে ঢাকা শহরে অনেক গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে রোবট বসে গেছে। বড় বড় রাস্তাঘাট, ব্রিজ মেশিনারিজ পার্টস কাজে নেমেছে। কারখানা থাকছে না। কম্পিউটিং ব্যবস্থা সবটুকু করে দিচ্ছে, পরিচ্ছন্নভাবে, দ্রুততর সময়ে। মানুষের সময় সে নেবে না। কয়েক ঘণ্টার কাজ কয়েক মিনিটে করবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই ফ্লো শুরু হয়ে গেছে। এটি মোকাবিলা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এটির জন্য প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তুতি সর্বমুখী। শিক্ষা-স্বাস্থ্য-স্থানীয় সরকার, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসছে। সুবর্ণজয়ন্তীতে পদ্মা সেতু একটি বড় দিকনির্দেশনা। বর্তমান সরকার ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু করে উত্তরাঞ্চলে উন্নয়নের দিগন্ত খুলে দিয়েছিল। ফলে বগুড়াসহ নানা অঞ্চলে যে কর্মচাঞ্চল্য এসেছে, তা সহজেই দৃশ্যমান। পদ্মা সেতু—সেটি আরো বিস্তার ঘটাবে। যে রোডম্যাপ ও কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হবে, সেটি ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ রাতারাতি বহুমাত্রিক ফল লাভ করবে। এটি প্রতিরোধের ব্যাপার নয়। কেউ তা রুখতেও পারবে না। কারণ, গণমানুষ এ স্রোতে ইতিমধ্যেই যুক্ত হয়ে গেছে। স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার সম্মিলনে তারা মানসিকভাবেই বহু দূর এগিয়ে গেছে। মাওয়া, ভাঙ্গা, ফরিদপুর, বরিশাল বিস্তর পরিসর পাবে—ঢাকার যোগাযোগে। এমনটা আমরা দেখেছি, বঙ্গবন্ধু সেতু হওয়ার পরও। অনেক পরিত্যক্ত অঞ্চল হয়ে উঠেছিল কর্মমুখর। উন্নয়নের এসব ফলকে প্রযুক্তির সান্নিধ্য, শনৈঃ উন্নতি, অপার সম্মিলনের যে আয়োজন সেটি জনগণের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। কোভিডের তাণ্ডব সেটি যেন আরো প্রতিরোধের শক্তি তৈরি করে ফেলে। কিন্তু এটাও সত্য যে, আমাদের তৃপ্তির ঢেকুর ফেললে হবে না। বাস্তব পরিপ্রেক্ষিত বুঝে, নতুন প্রজন্মের জন্য সুখী সুন্দর একটি বাংলাদেশ উপহার দিতে হবে—যা চ্যালেঞ্জিং, গোটা বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতার শক্তিতে এখন মুখর, এই অঞ্চলের জনতা। ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাও তাই। এই শক্তিটুকু অভ্যন্তরীণ, সেটি বাঙালির মধ্যে আছে; কিন্তু যৌক্তিক জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। অবশ্যই তা সহজ নয়; দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। সেটির শক্তি এই সুবর্ণজয়ন্তীর ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।

৩.

আশাবাদ তো আছেই। ২০২১ উপর্যুক্ত সমস্ত আশাবাদের শামিয়ানায় দ্রবীভূত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের আর্থিক ও মানসিক শক্তি বাড়াতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। এগুলো প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জ। স্তুতি, তোষামোদি, অপরাজনীতির বিপরীতে পরিশুদ্ধ এবং দেশপ্রেমিক শাসকের রাষ্ট্র চাই। সেটি প্রতিফলন হয় কীসে? রাজনীতির যে সংস্কৃতি, সেটি দরকার। নতুন প্রজন্ম, অনেকটা লোভ ও প্রাপ্তির আশায় জর্জরিত। সহজলভ্য প্রাপ্তির যোগ আছে—যা চরিত্রবিনাশী। রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়ন কাম্য নয়। সেটি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবিষ্ট আছে। এটি উপড়ে ফেলা খুব জরুরি। আমরা ‘চতুর্থ বিপ্লবে’র কথা বলছি—সেটি দাঁড়াবে কার ওপর? এখনো কৃষিভিত্তিক সমাজে কৃষক অবহেলিত, নগরায়ণ পূর্ণতা পায়নি, নাগরিক জীবনের যে স্বাচ্ছন্দ্যময় উপযোগ তা নাগরিক সমাজে গড়ে ওঠেনি। এসব সুবিধা নামমাত্র হলে হবে না। পৌরসভা অনেক—কিন্তু পৌর সুবিধা নেই—থাকলেও দলবাজি বা ক্ষমতাবাজির নামে চলছে—চক্রদুর্নীতি। পাড়ায়-মহল্লায় শিক্ষাসুলভ বা প্রযুক্তিমুখী কার্যক্রম দুর্লভ। ফলে গণমুখী সংস্কৃতি প্রায় পরাস্ত। সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যন্ত একটা সহজ পুঁজিসুলভ ভুঁইফোঁড় আঙুল ফুলে কলাগাছের তেলেসমাতি চলছে। সেখান থেকে গণমানুষকে মুক্তি দিতে হবে। প্রজন্মকে সমস্ত ধূর্ততা, দুর্বৃত্তায়ন থেকে বের করে আনতে হবে। এজন্য কড়া নির্দেশ জারি থাকুক—২০২১-এ। দুর্নীতি কথার কথা নয়, পরীক্ষিত, শিক্ষিত জননেতৃত্ব তৈরিতে সহায়ক হোক। সেটি সবার প্রত্যাশা।

বিগত বছরে যা নেই, তা পাওয়ার আশা থাকে। কিন্তু সেটি গতানুগতিক পর্যায়ে আর থাকলে চলবে না। বারবারই নতুন বছর আসে, ভাঙা রেকর্ড চলে। লাভ কী? এবার কোভিড আমাদের সামনে নতুন পরীক্ষায় উত্কীর্ণ করেছে, নতুন শর্ত ঝুলিয়ে দিয়েছে। চ্যালেঞ্জ জুড়ে দিয়েছে। শুধু নিজে যে বাঁচা যায় না, সেটি যে ভুল, অদূরদর্শিতা—তার প্রমাণ করেছে। আগেই বলেছি, আমরা যদি মৃত্যুর সালতামামি দেখি—তবে দেখব, সম্পন্ন মানুষদের মৃত্যু অনেক বেশি, গ্রামের শ্রমজীবীরা কম। তাই সাম্য, বৈষম্যহীনতা—সময়ের দাবি, সমাজের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা। সেই শিক্ষাটি আমরা কীভাবে নেব—সেইটিই বড় প্রশ্ন।

৪.

সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ জাতি-পরিচয়ে উচ্চ মর্যাদায় আসীন। সেটি আরো বাড়বে। প্রযুক্তির গ্রহণেচ্ছুতা অধিক জনসংখ্যার দেশে অভিশাপ নয় আশীর্বাদ। কিন্তু পরিকল্পনা চাই। প্রযুক্তিমুখী জীবন চাই। জৈব বিশ্বে প্রযুক্তির স্বাদ গ্রহণই শুধু নয়, তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন খাত। জনসংখ্যা সেখানে একটি বড় শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। চীন এক্ষেত্রে বড় দৃষ্টান্ত। ভারতও এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আর পিছিয়ে পড়ার সময় নেই। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্সের আওতায় যে কার্যক্রম গড়ে তুলেছে—তা অনেকটাই আশাবাদী করে তুলছে। কিন্তু সেটি কতটা সময়ের নিরিখে কার্যকর হয়—সেটি দেখার বিষয়। আমরা স্বপ্ন দেখি, সেটির বাস্তবায়ন চাই। আমাদের শক্তি এই নতুন প্রজন্ম—যারা প্রযুক্তিতে আগ্রহী ও নির্বিচারে নিটোল—তাদের কাজে লাগাতে হবে। এ প্রক্রিয়াটিকে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তেমনি— সবার হতে হবে—গুরুত্বটা অনুধাবন করতে হবে। ২০৪১ তো সেই লক্ষ্যেরই কাঙ্ক্ষিত সেতু। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারিগরি শিক্ষার ব্যাপারে যে দিকনির্দেশনাগুলো দিয়েছে, তা আশাপ্রদ করে তোলে; নির্ধারিত লক্ষ্যে তা যদি কঠোরতায় পালিত হয়, তাহলে তার সুফল সবাই ভোগ করবে। এরকম অন্য সব মন্ত্রণালয়ও পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে চলবে। বিষয়গুলো, আশাবাদী হয়ে ওঠার প্রয়াস বা পদক্ষেপ মাত্র নয়, কার্যকর হওয়াটা পরীক্ষা। খোলনলচে না পালটালে সুবর্ণজয়ন্তী প্রচারের উত্সব মাত্রই হয়ে উঠবে, ফলদায়ক হবে না। ৫০ বছরে আমাদের অর্জন কী, তেমনি ২৫ বছরে আমাদের পরিকল্পনা কী—দুটোই প্রশ্ন—কোভিডের ভেতর দিয়ে এসব আত্ম-উন্মোচনের দর্শনে পরিণত হোক, নিজেদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজেই পরিচিত হই, বিশেষত আমার দেশ ও আমাদের মর্যাদার প্রশ্নে।

নতুন বছরে সবাইকে শুভেচ্ছা।

n লেখক : অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়