এক বছরের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আড়াই বছর পরও তা শেষ হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। নির্ধারিত স্থানের পুরাতন সেতুটি ভেঙে পড়ে ২০১৬ সালে। এলজিইডির দরপত্রের মাধ্যমে নতুন করে সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। সেতুটি হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার ইমামগঞ্জ-বাসাইল-রামকৃষ্ণদী পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার বাসাইল বাজারসংলগ্ন ইছামতি নদীর ওপর। এই রাস্তায় প্রতিদিন ট্রাক, জিপ, প্রাইভেটকার, টেম্পো, অটোবাইক, রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে সেতু না থাকায় প্রতিদিন অসমাপ্ত সেতুর দুই পাশে শতশত যানবাহন আটকে থাকতে দেখা যায়। যাত্রীদের এক পাশে যানবাহন থেকে নেমে অন্য পাশে গিয়ে নতুন করে যানবাহনে উঠতে হয়। তবে বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিছু কিছু ব্যাটারিচালিত অটোবাইক গুরুতর অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে সেতুর দুই পাশে ফেলানো বালুর ওপর দিয়ে পারাপার হতে দেখা যায়। এতে যানবাহনের চাকা দেবে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
এলাকার ছয়-সাত গ্রামের শতশত লোক প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে রাজধানীতে গিয়ে চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজের কাজ সম্পন্ন করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। কিন্তু দীর্ঘ চার বছর নদীর ওপর সেতু না থাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ ও সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। রাজধানী ছাড়া এলাকাবাসীর জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদসহ হাটবাজার ও বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি।
এ ব্যাপারে সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলী শোয়েব বিন আজাদ জানান, এলজিইডি বিভাগের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজটি দরপত্রের মাধ্যমে পেয়েছে এশিয়ান ট্রাফিক টেকনোলজিস লিঃ। বর্তমানে সেতুর প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে। সেতুর দুই পাশের ঢালাইয়ের কাজ বাকি। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দুই বার সময় বাড়িয়েছে। বাকি কাজ ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করার জন্য সময় নিয়েছে।
