১ জানুয়ারি, শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন। টানা ১০ বছর ধরে এই দিনটির সেরা আয়োজন ছিল বই উত্সব। এই উত্সব ছড়িয়ে পড়তো দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থীরা খালি হাতে স্কুলে যেত, আর নতুন বই নিয়ে ঘরে ফিরতো। কিন্তু করোনার কারণে এবার এই চিত্র পালটে গেছে।
এবার বই উত্সবে ভিন্নতা ছিল। বড় কোনো আয়োজন ছিল না। স্কুলে ছিল না উল্লেখ করার মতো শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও। খুবই স্বল্প পরিসরে আয়োজন করে স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীকে ডেকে বই বিতরণ করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো স্কুল কর্তৃপক্ষ বই উত্সবের ব্যানার টানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রধান অতিথি করে বই বিতরণের সংক্ষিপ্ত আয়োজন করে।
গতকাল দেশের সব প্রাথমিক স্কুলে বই বিতরণ করা হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্কুলে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিয়েছেন শিক্ষকরা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল বই বিতরণে অভিভাবকদের উপস্থিতির জন্য। এই নির্দেশনা মেনে অনেক অভিভাবক স্কুলে গিয়ে তার সন্তানের জন্য বই নিয়ে আসেন। আবার অনেক অভিভাবক তার সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যান। তবে যে সব শিশু শিক্ষার্থী স্কুলে বই নেওয়ার জন্য গিয়েছিল তাদের মধ্যে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে এবার বছরের প্রথম দিন একসঙ্গে পাঠ্যপুস্তক উত্সব না করে ভাগে ভাগে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ২২৬ জন শিক্ষার্থীর হাতে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ৪১২টি বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরের বইগুলো শুক্র ও শনিবার এবং মাধ্যমিকের বইগুলো ১ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বিতরণ করতে সরকারের তরফ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বই উত্সব উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বই তুলে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল থেকে সব বিদ্যালয়ে বই বিতরণ শুরু হয়।
করোনার মধ্যেও বই পৌঁছেছে স্কুলে
মাধ্যমিকের সব বই না পৌঁছলেও প্রাথমিকের সব বই পৌঁছে গেছে স্কুলে স্কুলে। তথ্য অনুযায়ী, করোনার কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করতে দেরি হয়। এছাড়া মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের কাভারের ভেতরের পাতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ওপরে বাছাইকৃত বিভিন্ন ছবি যুক্ত করায় মুদ্রাকররা উচ্চ দরের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু অগ্রণী প্রিন্টার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রথম থেকে নবম শ্রেণির এই পাঠ্যবই মুদ্রণে প্রচলিত সিন্ডিকেটের বাইরে অবস্থান নেয়। এতে বাধ্য হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও কম দর দিতে বাধ্য হয়। ফলে সরকারের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়।
তবে মাধ্যমিকের সব বই পৌঁছতে আরো দেরি হবে বলে জানা গেছে। গতকাল রাজধানীর কয়েকটি স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে নবম শ্রেণির বই পৌঁছায়নি। অথচ গতকালই নবম শ্রেণির বই বিতরণের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা ছিল। রাজধানীর সিদ্ধান্ত হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম রনি জানান, তার স্কুলে নবম শ্রেণির বই পৌঁছায়নি।
এদিকে ২০২০ সালের বকেয়া টিউশন ফি পরিশোধ না করায় এবং নতুন শ্রেণিতে ভর্তি না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বই পায়নি। জানা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমই শেষ হয়নি। ফলে এই স্তরের শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা যাবে না।
