নতুন বছরের প্রথম দিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে চালের দাম আরেক দফা বেড়েছে। দাম বাড়ার এ তালিকায় রয়েছে ভোজ্য তেল ও মসুর ডালও। তবে ভোক্তাদের জন্য সুখবর হলো—ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় এ পণ্যটির দাম আরো কমেছে। কমেছে আলু ও ডিমের দামও।
গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজার, মহাখালী কাঁচাবাজার ও তুরাগ এলাকার কামারপাড়া বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মোকামে চালের দাম বেড়েছে। এ কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে সরু ও মাঝারি মানের চালের কেজিতে দুই টাকা বেড়েছে বলে তারা জানান। একই তথ্য জানিয়েছে, সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি)। বিপণন সংস্থাটি গতকাল তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ৬০ থেকে ৬৬ টাকা ও মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা ৫৩ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছরের শেষ দিন বৃহস্পতিবারে তুলনায় কেজিতে দুই টাকা বেশি। এছাড়া মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকা।
চালের পাশাপাশি গতকাল দাম বেড়েছে ভোজ্যতেল ও মসুর ডালের। খোলা সয়াবিন লিটারে তিন টাকা বেড়ে ১০৭ থেকে ১১০ টাকা, খোলা পাম অয়েল দুই টাকা বেড়ে ৯৫ থেকে ৯৭ টাকা ও পাম সুপার চার টাকা বেড়ে ৯৮ থেকে ১০২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বেড়ে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬১০ টাকা।
মাঝারি দানা মসুর ডাল কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। আর ছোটদানা মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও বড়দানা মসুর ডাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় দেশের বাজারে এ পণ্যটির দাম আরো কমেছে। গতকাল বাজারে নতুন দেশি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। যা এক দিন আগেও ছিল যথাক্রমে ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। কাওরান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই এখন পেঁয়াজের মৌসুম। তারপর ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে। ফলে দুই/এক দিনেই দাম অনেক কমেছে।
কমেছে ডিমের দামও। ডজনে ১০ টাকা কমে ফার্মের লাল ডিম ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ও হাঁসের ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর দেশি মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। তবে ডিমের দাম কমলেও বেড়েছে মুরগির দাম। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা ও গরুর মাংস ৫৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।
এদিকে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় সবজির দাম আরো কমেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজিভেদে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি শালগম, মুলা ১৫ থেকে ২০ টাকা, গাজর ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, শিম ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ও ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পাকা টম্যাটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা টম্যাটো বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে চাষের শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কই ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, রুই ২২০ থেকে ২৮০ টাকা, কাতলা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, চিংড়ি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, পাঙাশ ১২০ থেকে ২০০ টাকা, পোয়া মাছ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, পাবদা মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, টেংরা মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ও কোরাল ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা ও এক কেজির ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে।
