পঞ্চাশ বছরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি নওগাঁ মুক্তিযুদ্ধ

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৩

প্রায় ৫০ বছর অতিক্রান্ত হলেও ঐতিহাসিক নওগাঁ মুক্তিযুদ্ধ আজো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। অথচ এই সম্মুখ যুদ্ধের বীরত্বগাথা এখনো মুখে মুখে। এই যুদ্ধে ১৩০ জন পাকিস্তানি সৈন্য ও দুই শতাধিত রাজাকার নিহত হয়। একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি সৈন্য ও রাজাকার নিহত হওয়ার ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্য কোথাও আর ঘটেনি।

এ যুদ্ধে শত্রুবাহিনী প্রতিহতকারী প্রধান কমান্ডার ও প্রশিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রাক্তন আনসার কমান্ডার ওস্তাদ গাজী আব্দুর রহমান মিঞা (৯৭) বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও নির্দেশকে পুঁজি করে শুধু সাহস ও সাধারণ অস্ত্র দিয়ে মরণপণ লড়াই করেছি। শুধু নওগাঁ যুদ্ধেই প্রায় দেড়শ পাকিস্তানি সৈন্য ও দুই শতাধিক রাজাকার খতম করি এবং অর্ধ শতাধিক পয়েন্টে যুদ্ধ করে প্রায় ৩ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা শত্রুমুক্ত করি। এর পরও ঐতিহাসিক নওগাঁ মুক্তিযুদ্ধ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেল না।’

যুদ্ধের প্রথম সারির এলএমজিম্যান মনসুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সারা দেশে যতগুলো সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে তার মধ্যে নওগাঁযুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। নিজেরা অক্ষত থেকে এত বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি সৈন্য ও রাজাকার খতম করা ও বিপুল পরিমাণ ভারী সমরাস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসার ঘটনা অন্য কোথাও ঘটেনি। গাজী আব্দুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সংগঠন ‘পলাশডাঙ্গা যুবশিবির’ ছিল অপরাজেয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জা। ৩৯টি বড় নৌকা ও ৬টি ডিঙ্গি নৌকায় ­স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত ও ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, বিমান ও নৌবাহিনীর ৪০ জন সৈনিকসহ আমরা মোট ৪০৮ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। তিনি ঐ যুদ্ধের বিশদ বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘দুপুর ১২টার পর থেকেই পরিস্থিতি পালটে যায়। আমরা হানাদারদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলি। উপর্যুপরি গুলিবর্ষণে নিহত হয় ১৩০ জন পাকিস্তানি সেনা। কিছু সৈন্য পালিয়ে যায়। অবশিষ্টরা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। ক্যাপ্টেন সেলিমসহ আট জন জীবিত পাকিস্তানি সেনাকে আমরা ধরে ফেলি। বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকাবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। এ যুদ্ধে আহত হন মাত্র চার জন মুক্তিযোদ্ধা।’

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক নওগাঁ মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণীয় করে রাখতে পলাশডাঙ্গা যুবশিবিরের মুক্তিযোদ্ধারা নিজস্ব উদ্যোগে ঐ স্থানে বিজয়স্তম্ভ, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও মুরাল স্থাপন করেন। প্রতি বছর ১১ নভেম্বর সব মুক্তিযোদ্ধা এখানে সমবেত হয়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটিকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন।