জাতীয় পার্টি-জেপির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৩

জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, আলোচনাসভা, দোয়া মাহফিল ও নেতাকর্মীদের পুনর্মিলনীসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার রাজধানী এবং পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া ও ইন্দুরকানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টি-জেপির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সকাল ৭টায় রাজধানীর লালমাটিয়ায় জেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিকাল ৪টায় জেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হয় নেতাকর্মীদের পুনর্মিলনী। জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেছেন, ১৯৮২ সালে এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের পেছনে বিএনপি বৃহত্তর অংশের এবং আওয়ামী লীগের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছিল। সে সময়ে দুঃশাসনের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য জনগণও ক্ষমতা হস্তান্তরে সমর্থন ব্যক্ত করেন। ১৯৮৬ সালে এই সামরিক শাসন থেকে সাংবিধানিক ধারায় উত্তরণের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি গঠিত হয়। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি জয় লাভ করে সামরিক আইন প্রত্যাহার করে           দেশকে  সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে নেয়। গত ৩৫ বছর যাবত্ জেপি কখনো সরকারি দলে ও কখনো বিরোধী দলে থেকে সাংবিধানিক ধারা শক্তিশালীকরণে ইতিবাচক অবদান রেখেছে।

শেখ শহীদ বলেন, জেপি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার কায়েম, ক্ষুধা-দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও পশ্চাত্পদ চিন্তা হতে মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। জেপি এদেশের রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী সংগঠন। যারা নির্বাচন বয়কট, সংসদ বর্জন এবং হরতালের মতো অসাংবিধানিক কার্যকলাপ সবসময়ই পরিহার করে চলেছে। সভাপতির বক্তব্যে সাদেক সিদ্দিকী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করতে হবে। এতে আরো বক্তব্য রাখেন—দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা ও নাজমুন্নাহার বেবী, ভাইস-চেয়ারম্যান মির হারুন অর রশিদ, মোহাম্মদ হোসেন রেণু ও আফজাল হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক এম সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সহ-সাধারণ সম্পাদক  ও স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম তপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) হাজী আবুল  হোসেন,  প্রচার সম্পাদক হুমাপ্রণ কবির তালুকদার রাজু, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আলী আব্দুল্লা টিংকু, শিক্ষা ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও যুবসংহতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মিয়া খান, যুগ্ম-প্রচার সম্পাদক মঞ্জুর হাবিব, যুগ্ম-দপ্তর সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী, যুগ্ম-শ্রম ও শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ওয়াকিল আহমেদ ওকাল, যুগ্ম-পরিবেশবিষয়ক সম্পদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাদেকুর রহমান প্রমুখ।

ভাণ্ডারিয়ায় আলোচনাসভাসহ নানা কর্মসূচি

ইত্তেফাকের ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা শঙ্কর জীত্ সমদ্দার জানান, জেপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপজেলা জেপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে উপজেলা সদরের রিজার্ভপার দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা, দোয়া-মোনাজাত ও কেক কাটা হয়। আলোচনাসভায় উপজেলা জেপির আহ্বায়ক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুল হক মনি জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেপির উপজেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং পৌর কাউন্সিলর মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সদস্য সচিব এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, জেপি নেতা মো. শফিকুল আলম খোকন সিকদার, সেন্টু মোল্লা, পৌর জেপির আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন মিয়া স্বপন, উপজেলা যুবসংহতির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ সরদার, পৌর যুবসংহতির আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন দুলাল সরদার, পৌর কাউন্সিলর মো. মানিক হাওলাদার, আব্দুল সালেক তালুকদার, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন জেপির সভাপতি রেজা আহম্মেদ দুলাল, যুবসংহতি নেতা আবু বক্কর মাস্টার, উপজেলা ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন রাহাত জোমাদ্দার, সদস্য সচিব মাহাবুব শরিফ শুভ প্রমুখ। সভায় বক্তারা ইংরেজি বিদায়ি বছরের সব ভুলভ্রান্তি ভুলে নতুন বছরে নতুন উদ্যমে দলের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তৃণমূল পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যায়ের সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পরে দলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে এবং দলের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মো. আবুল বাশার। দোয়া-মোনাজাতে উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড জেপি এবং এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় প্রবীণ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শরিক হন। পরে কেক কাটা হয়।

ইন্দুরকানীতে কর্মসূচি পালন

ইত্তেফাকের ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা আহাদুল ইসলাম শিমুল জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল বিকালে উপজেলা জেপির কার্যালয়ে আলোচনাসভা, কেক কাটা ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাসভায় ইন্দুরকানী উপজেলা জেপির আহ্বায়ক আসাদুল কবীর স্বপন তালুকদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন উপজেলা জেপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শাহিন হাওলাদার, উপজেলা জেপির সাবেক সদস্য সচিব মশিউর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম-আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ দুলাল, মনিরুজ্জামান রানা, উপজেলা জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী সুলতানা রাজিয়া রানী, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি মজনু হোসেন রনি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, উপজেলা ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক জসিম মীর, উপজেলা শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সভা শেষে বিশেষ দোয়া-মোনাজাতে জেপির চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

খুলনায় র্যালি

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল বিকালে খুলনা মহানগর ও জেলা জেপির উদ্যোগে নগরীর হোটেল আরাফাত ইন্টারন্যাশনালের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। পরে হোটেল রুমে কেক কাটা ও আলোচনাসভা হয়। আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন বলেন, জেপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। এদেশের উন্নয়নে জেপির বলিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা জেপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ। বক্তব্য রাখেন মহানগর জেপির সহসভাপতি মো. হায়দার আলী হাওলাদার, শফিকুল ইসলাম চৌধুরী, হাবিবুর রহমান, জেলা  জেপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন হাওলাদার, ড. এস এম জাকারিয়া, আয়শা বেগম মালা, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ছাত্রনেতা আবু হোসেন, জি এম হাসান, সফিউদ্দিন, এম এম খলিলুর রহমান, জুয়েল হাওলাদার প্রমুখ।