নতুন বছরের প্রথম দিনে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে সরব ছিল দেশের সংস্কৃতি অঙ্গন। শিল্পকলা একাডেমির তিন মিলনায়তনে তিনটি নাটকের মঞ্চায়ন ও আরেকটি মিলনায়তনে নাচ, গানসহ নানা অনুষ্ঠামালা আয়োজিত হয়েছে।
শিল্পকলায় তিন নাটক :শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার তিন মিলনায়তনে তিনটি নাট্যদলের তিনটি নাটক মঞ্চায়ন হয়। এর মধ্যে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় এম্পটি স্পেস থিয়েটার প্রযোজিত নাটক ‘নিউ টেস্টামেন্ট অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’। একই সময়ে পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় জাগরণী থিয়েটারের নাটক ‘রাজার চিঠি’ ও স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় নাট্যবেদ প্রযোজিত নাটক ‘ছায়া মানুষ’।
নাটকটির কেন্দ ীয় চরিত্র একজন কবি যিনি পূর্ণিমা রাতে কবরস্থানে এসে ফুলের গন্ধে মাতাল হন আর নিষ্ঠা প্রেমের গান করেন। তার এই গান শুনে সেই স্থানে এসে হাজির হয় রোমিও আর জুলিয়েট। এভাবেই চলতে থাকে নাটকের ঘটনা, আর এই ঘটনাচক্রে এক পর্যায়ে উপস্থিত হয় ফাদার ফ্রায়ার এবং সবশেষে শেকসিপয়র। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—গোলাম শাহরিয়ার সিক্ত, স্বাধীন বিশ্বাস, নুরজামান রাজা, লোবা আহম্মেদ, নাসিমুল হোসাইন বাধন, বাপ্পি সরদার, শুভ্র আহম্মেদ, আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ জাগরণী থিয়েটারের নাটক ‘রাজার চিঠি’। মাহফুজা হিলালী রচিত এই নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন দেবাশিস ঘোষ। এটি ছিল নাটকটির ২৫তম মঞ্চায়ন। ১৯৩৯ সালে শাহজাদপুরের হরিদাস বসাকের একটি চিঠির উত্তরে চিঠি লিখেছিলেন রবীন্দ নাথ ঠাকুর। এই চিঠি এবং রবীন্দ সাহিত্যের প্রভাবে হরিদাস বসাকের জীবন রবীন্দ নাথের ‘ঠাকুরদা’ চরিত্রের মতো হয়ে ওঠে। এই কাহিনী নিয়েই ‘রাজার চিঠি’ নাটকটি রচিত হয়েছে। নাটকে ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের চিত্র এবং হরিদাস বসাকের মাতৃভূমি আঁকড়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—স্মরণ সাহা, শাহানা জাহান সিদ্দিকা, আবেদা আক্তার তৃপ্তি, সেবেকুন নাহার মুন, শাহানাজ শারমিন খান শিমু, জুলিয়েট সুপ্রিয়া সরকার, মো. ইয়াসিন শামিম, মো. বাহারুল ইসলাম বাহার, মো. রফিকুল ইসলাম রনি, সজীব ঘোষ, রুকুনুজ্জামান আপেল, রিপা হালদার, মীম, শেখ আকাশ, পল্লব সরকার, মোহানী মানিক, ইমন প্রমুখ।
আর স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় নাট্যবেদ প্রযোজিত নাটক ‘ছায়া মানুষ’। নাটকটিতে একক অভিনয় করেছেন মির্জা সম্র্রাট।
শিল্পকলা একাডেমি :বাংলাদেশের নৃত্যের ভুবনে কীর্তিমান মানুষ নৃত্যগুরু ও বুলবুল চৌধুরী। তার হাত ধরেই এদেশের নাচের জগত্ বিকশিত হয়। বাংলাদেশের নাচকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচয় করিয়ে দিতে তার ছিল অসামান্য ভূমিকা। নতুন বছরের প্রথম দিন গতকাল ১ জানুয়ারি ছিল তার ১০২তম জন্মবার্ষিকী। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। আয়োজনের সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা।
