বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৮

মাধব রায়

সহকারী অধ্যাপক

ব্লুবার্ড হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট

গতকালের পর

 

এর আগে মতিউর গাড়িটি বিমানের পিছনে এমনভাবে পার্ক করে আসেন, যাতে করে এটি না সরিয়ে কেউ ব্লুবার্ড ১৬৬ কে ধাওয়া না করতে পারে। ব­্লুবার্ড ১৬৬ নিয়ে তিনি রানওয়েতে ঢুকে আকাশে উড়াল দেন।

এদিকে ভারতীয় বিমানবাহিনি পাকিস্তানিদের কথোপকথন ইন্টারসেপ্ট করে মতিউরের বিষয়টা বুঝে গিয়েছিল এবং কিছু যুদ্ধবিমান ভারতের আকাশে ঢুকার পর মতিউরকে পাকিস্তানিদের হাত থেকে বাঁচাতে আকাশে টহলও দিচ্ছিল।

অল্প কিছুক্ষণ পরেই মিনহাজের জ্ঞান ফিরে এলে সে মতিউর এর কাছ থেকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেবার চেষ্টা করল। এক পর্যায়ে ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতিই শুরু হলো বিমানের ভিতরে। মিনহাজ হঠাত্ করে ইজেক্ট সুইচ টিপতেই মতিউর আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না। ছিটকে বেরিয়ে গেলেন বিমান থেকে। তাঁর সাথে প্যারাসুটও ছিলনা, ফলে তিনি দুর্ঘটনা এড়াতে পারেননি এবং সাথে সাথে শাহাদত বরণ করেন।

আর মিনহাজ বিমান নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে প্যারাসুট খুলে নামার চেষ্টায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিমান খুব নিচু দিয়ে ওড়ার ফলে প্যারাসুট আর খোলার সুযোগ পায়নি। মাটিতে পড়ে তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বিকালে খবর পাওয়া গেল ভারতীয় সীমান্ত থেকে ৩৫ মাইল দূরে ৩ মিনিটের পথ থাট্টার কাছে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এবং পাইলট দুজনই মৃত্যুবরণ করেছে।

পাকিস্তান সরকার রশিদ মিনহাজকে দেশপ্রেমিক আখ্যা দিয়ে নিশান-ই-হায়দার খেতাব দিয়েছে, আর মতিউর রহমানকে বলেছে বিশ্বাস ঘাতক। যথার্থই তাদের মূল্যায়ন। মতিউর তো বাংলাদেশের, বাঙালির স্বার্থই দেখবেন। তিনি তো নিজের স্বার্থে বিমান ছিনতাই করতে যাননি। নিজের প্রাণের মায়া, স্ত্রী, দুই কন্যার প্রাণের মায়া ত্যাগ করে দেশ মাতৃকার টানে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। কাজেই পাকিস্থান শাসকদের কাছে তিনি বিশ্বাসঘাতক হবেনই, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার এই বীরকে তাঁর আত্মত্যাগের প্রতিদান হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন করেছে। তাঁর মতো ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে প্রাপ্ত স্বাধীন দেশের সরকার তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করেছে।