দেখতে দেখতে করোনা মহামারির মধ্যদিয়ে পুরো একটি বছর পার করে আমরা নতুন বছরে পদার্পণ করলাম। বিগত বছরটিকে বরণ করার সময় কেউ ভাবতেও পারেনি যে, বছরটি মানবজাতির জন্য এতটা বিষময় হবে। ২০২০ পুরো বছরটিই কাটল আতঙ্ক, উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যদিয়ে। ভয়াবহ এই বছরটিকে বিশ্ববাসী আর দুঃস্বপ্নেও মনে করতে চাইবে কি না সন্দেহ! প্রায় সারা বছরই করোনা ভাইরাসের মরণভীতি নিয়ে মানুষ অসহায়ের মতো দিন কাটিয়েছে। একটি মহামারি যে কত ধরনের সংকটের সৃষ্টি করতে পারে, ২০২০ সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠী, প্রায় ৪০০ কোটি মানুষকে মাসের পর মাস গৃহবন্দি থাকতে বাধ্য করেছে এই মহামারি। প্রায় আট কোটির অধিক মানুষ করোনা সংক্রমিত হয়েছে। মৃত্যু বরণ করেছে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ। প্রতিদিনই সংক্রমণ ও মৃতের খাতায় পাল্লা দিয়ে যুক্ত হচ্ছে আরো সংখ্যা।
তবে আশার কথা হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সাফল্যের মুখ দেখেছেন। ফলে নতুন বছরে সবার মধ্যে একধরনের আশার আলো জ্বলতে শুরু করেছে। বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত এই ভ্যাকসিনগুলোর মধ্যে ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্না আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৯৫ শতাংশ, অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার ৬২ থেকে ৯০ শতাংশ আর জামালিয়া (স্পুটনিক-৫) এর ৯২ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এই বছরেই সব দেশকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। ফলে আমরা আশা করতেই পারি, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে নতুন এই বছরেই আমরা সাফল্যের মুখ দেখতে পাব। ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের টিকা আনার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দেশে আসছে অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন। জানা গেছে, প্রথম দফায় ৩ কোটি ডোজ আনা হবে। আবার মে-জুন মাসের মধ্যে আরো ৬ কোটি ডোজ আসবে। ফলে দেশবাসী এই ভয়াবহ মহামারির কবল থেকে বাঁচতে আশায় বুক বাঁধছে।
এই মুহূর্তে করোনা মহামারি থেকে আমরা হয়তো রাতারাতি রক্ষা পেয়ে যাব না। ভ্যাকসিন আসা পর্যন্ত আমাদেরকে আতঙ্ক নিয়েই বাঁচতে হবে। কিন্তু যত দিন ভ্যাকসিন সবার কাছে পৌঁছানো না যায়, তত দিন বাঁচার একমাত্র উপায় স্বাস্থ্যবিধি মানার মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। নতুন এই বছরে বিশ্ববাসীর প্রথম প্রত্যাশাই হলো একটি করোনামুক্ত নির্মল পৃথিবী দেখা। বিশ্বের প্রতিটি মানুষ যেন করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত করতে পারে, সেই স্বপ্ন আমাদের সবার। তাই সব অনিশ্চয়তাকে দূরে ঠেলে দিয়ে মহামারি নির্মূল হোক—এই বছর এটাই সবার প্রত্যাশা।
n লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
