বছরের শুরুতেই পর্যটকদের ভিড়
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
বৈশ্বিক মহামারি করোনার বিপর্যয় মোকাবিলা করে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাঙ্গামাটির পর্যটনশিল্প। নতুন বছর ২০২১ সালের শুরুতেই রাঙ্গামাটির পর্যটন স্পটগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে শুরু করলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচল হয়ে উঠেছে এ খাতের ব্যবসা-বাণিজ্য। আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে পর্যটন স্পটগুলো। অরণ্য, পাহাড়, ঝরনা আর হ্রদের শহর রাঙ্গামাটিতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন স্পটগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শীত মৌসুমের শুরু থেকেই আগমন ঘটছে পর্যটকদের। রাঙ্গামাটির হোটেল-মোটেলগুলোতেও বুকিং রয়েছে সব সময়। এবার ইংরেজি নতুন বছরের দিনে ছুটি থাকায় শুক্রবার ও গতকাল শনিবার রাঙ্গামাটিতে ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল। রাঙ্গামাটি পর্যটনের আকর্ষণীয় স্পটের মধ্যে রয়েছে, পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, শুভলং-এর মনোমুগ্ধকর ঝরনা, রাজ বন বিহার, বড় গাঙ, জেলা প্রশাসনের বাংলো ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে সাজেকের পর্যটন ও কাপ্তাই উপজেলায় মনোরম দৃশ্য। রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত সেতুতে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যটন সেতুসহ আশপাশের স্পটগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। ঝুলন্ত সেতুর ওপারে তাঁতের সামগ্রী কাপড়-চোপড় ও খাবারের দোকান বসানো হয়েছে।
রাঙ্গামটি পর্যটন করপোরেশনের বোট ইজারাদার মো. ওসমান গণি বলেন, রাঙ্গামাটির পর্যটনশিল্পের আকর্ষণ হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদ আর পাহাড়। এই দুইয়ের সংমিশ্রণে এখানকার পর্যটনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে বাইরের পর্যটকরাও। ব্যবসায় ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি। রাঙ্গামাটি হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন সেলিম ও হোটেল মতি মহলের ম্যানেজার চন্দন দাশ ব্রহ্মণ বলেন, রাঙ্গামাটির হোটেল-মোটেলগুলোতে প্রায় শতভাগ বুকিং রয়েছে। শহরের কোনো হোটেলে সিট খালি নেই। এছাড়া রাঙ্গামাটির সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়িয়ে বিলাস বহুল বাস সার্ভিস চালু হলে প্রতিদিন আরো ২ থেকে ৩ হাজার পর্যটক বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। পর্যটন ঘাটের ইজারাদার ম্যানেজার রমজান আলী জানান, দীর্ঘ করোনা ভাইরাসের কারণে পর্যটকের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। কিন্তু নতুন বছরের প্রথম দিনে ভালো পর্যটক এসেছে। তাদের ঘাটে থাকা বোট দিয়ে কাপ্তাই হ্রদে নৌ ভ্রমণসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো দেখছেন।
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, নতুন বছরের শুরুতেই পর্যটক আসতে শুরু করছে। গত দুদিন ধরে রাঙ্গামাটি সরকারি পর্যটন মোটেলে শতভাগ বুকিং ছিল। শুধু পর্যটন এলাকা নয়, রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বিপুল পরিমাণ পর্যটক লক্ষ্য করা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা কাজকর্ম পরিচালনা করছি। ঝুলন্ত সেতুসহ আশপাশে হ্যান্ড সেনিটাইজারের ব্যবস্থাসহ মাস্ক পরতে বিভিন্ন স্থানে সাইন বোর্ড দেওয়া হয়েছে।
