রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ ও হলহলিয়া নদীর বুকে চরাঞ্চলে পতিত বালু জমিতে ব্যাপক হারে বাদাম চাষ করা হচ্ছে। এবার বাদামের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ফলুয়ারচর, চরফুলুয়ারচর, পালেরচর, কান্দাপাড়া, খেরুয়ারচর, বড়চর, খেদাইমারী, ঘুঘুমারী, উত্তরে গাছবাড়ী, ইটালুকান্দা, চরকাউনিয়ারচর, সাহেবের আলগা, চরকাজাইকাটা, পশ্চিম-দক্ষিণে চরধনারচর, দিগলাপাড়া, চরপাখিউড়াসহ চরাঞ্চলে ৫২৫ একর জমিতে এবার বাদাম চাষ হয়েছে। ফুলুয়ারচর গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান ও জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা চরাঞ্চলের অতিদরিদ্র কৃষক। এই এলাকার প্রায় সব জমিতে বালু মাটির পরিমাণ বেশি হওয়ায় আমরা বাদাম চাষ করি। ধার করে কেউ বা সুদের ওপর টাকা নিয়ে বাদামের বীজ, সার কিনছে। এবার বাদামের ভালো ফল দেখা যাচ্ছে। বাদাম বিক্রি করে ধার-দেনা পরিশোধ করে যতটুকু ফসল থাকে, তা বিক্রি করে কষ্টে সংসার চলে। সরকার চরাঞ্চলে কৃষকদের বীজ, সার দিয়ে সহযোগিতা করলে আমরা আরো বেশি জমিতে বাদাম চাষ করে লাভবান হবো। বাইশপাড়া গ্রামের আবদুর রহিম ও রহমান বলেন, চরের জমিতে বাদাম, চিনা, কাউন চাষ করে সংসার চালাই। বিভিন্ন জাতের ফসল চাষাবাদ করে বাপ-দাদার ভিটেমাটি জমি-জিরাত আঁকড়ে ধরে আছি। বর্তমানে বাজারে বাদামের চাহিদা বেশি হওয়ায় এবার লাভ বেশি হবে। রৌমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তোফায়েল হোসেন বলেন, এ বছর রৌমারী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ভাঙনের ফলে আবাদি জমিতে বালু পড়েছে। প্রায় ৫২৫ একর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে, জমিতে পলিমাটি ও বালি মিশ্রিত থাকায় বাদামের ভালো ফলনের আশা করা যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এ বছর ভয়াবহ বন্যা হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদ ও হলহলিয়া নদীর চরাঞ্চলে বাদাম চাষ তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে। সরকার উপজেলায় কৃষি প্রণোদনা ও কৃষি পুনর্বাসন ১ হাজার ১৫০ জন কৃষকের মধ্যে বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ বিতরণ করেছে। আমরা চরাঞ্চলে কৃষকদের বাদাম চাষ করার জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
