মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সৈয়দপুরে কৃষিজমিতে ইটভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে। অবৈধভাবে জমির মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় উর্বরাশক্তি কমছে। এছাড়া ইটভাটাগুলোর বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলায় অর্ধশতাধিক ইটভাটা রয়েছে, যার অধিকাংশই অপরিকল্পিত। এসব ইটভাটার মাটির চাহিদা পূরণ করতে মাটি ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কেটে ভাটাগুলোতে সরবরাহ করছে। অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে মিল-কারখানায় দেওয়ার ফলে শত শত বিঘা জমির চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। সরেজমিনে উপজেলার কামারপুকুর, বোতলাগাড়ী, কাশিরাম বেলপুকুর, খাতামধুপুর ও বাঙালিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি বিনষ্টের চিত্র চোখে পড়ে।
কামারপুকুরের রমজান আলী নামের এক কৃষক বলেন, দুই ফসলি জমির মাঠ রয়েছে এ এলাকায়। জমিগুলোতে প্রতি বছর সরিষা ও বোরো ধান আবাদ করা হয়। এক শ্রেণির অসত্ ব্যবসায়ী জমির মালিক কৃষকদের ফুঁসলিয়ে জমির মাটি নিয়ে যাচ্ছে। বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের মতিয়ার রহমান নামের আরেক কৃষক বলেন, দুই বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। আমার পার্শ্ববর্তী জমিতে ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে ট্রাকে ভর্তি করে স্থানীয় মিলকারখানায় অধিক মূল্যে নিয়ে যাচ্ছেন এক মাটি ব্যবসায়ী। এতে আমার ফসলি জমিও বিনষ্টের পথে। অবৈধভাবে মাটি কর্তনকারীদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাসিম আহমেদ বলেন, ইটভাটার অনুমোদন দিয়ে থাকে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে যদি ইটভাটার মালিকরা পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মবহির্ভূত কিছু করে থাকে তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, ইটভাটার কারণে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই কৃষিজমির মাটি কাটা ও অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটার অনুমোদন বন্ধ হওয়া দরকার।
