ভ্যাট পরামর্শক পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২১, ২২:১৬

ব্যর্থ হতে যাচ্ছে এনবিআরের আরেকটি ভালো উদ্যোগ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ভ্যাট পরামর্শক নিয়োগের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি ভালো উদ্যোগে পানি ঢেলে দিল পরীক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত পরামর্শক পরীক্ষায় ৭৮২ জনের মধ্যে পাশ করেছে মাত্র সাত জন! অর্থাত্ পাশের হার এক শতাংশেরও কম। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, গাণিতিক অংশে ৫০ নম্বরের ওপরে প্রশ্ন থাকলেও তা সমাধানে পরীক্ষার্থীদের ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি, যা অন্যান্য পরীক্ষায় ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। বড় বড় ও ভগ্নাংশের মতো গাণিতিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য ক্যালকুলেটর প্রয়োজন ছিল। পরীক্ষায় পাশ করতে হলে কমপক্ষে ৫০ নম্বর পেতে হবে। কিন্তু প্রশ্নের আকার, নম্বর, উত্তর দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময় সাযুজ্যপূর্ণ ছিল না। আবার ক্যালকুলেটর নিষিদ্ধ। অর্থাত্ হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটতে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি উদ্দেশ্যমূল্যকভাবে করা হয়েছে—যাতে খুব কমসংখ্যক পরীক্ষার্থী পাশ করেন। দুই দশকের ওপরে ভ্যাট ও আয়কর ইস্যু নিয়ে কাজ করছেন, উচ্চশিক্ষিত—এমন বহু পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন।

জানা গেছে, এনবিআরের ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারাও অবসরে যাওয়ার পর ভ্যাট পরামর্শক হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তাদের পরীক্ষা দিতে হবে না। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, এনবিআরের কর্মকর্তাদের বাইরে বেশিসংখ্যক মানুষ যাতে এ পেশায় আসতে না পারে, সেজন্য কৌশলে এ কাজ করা হয়েছে। পরীক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষের দিকে উঠেছে এ অভিযোগের আঙুল।

ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে এনবিআর নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভ্যাট পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ করে পরীক্ষা নিয়ে তাদের সনদ দেওয়া হবে। এসব পরামর্শক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ীদের হয়ে এনবিআরে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল তথা এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সহায়তা করবে। এনবিআরের শীর্ষ পর্যায় থেকে চাইছে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট আদায় কার্যক্রমে মানুষকে আরো বেশি হারে যুক্ত করতে। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাঠ প্রশাসন হাঁটছে উলটো পথে। তারা মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ভ্যাট কর্মকর্তাদের বাইরের কেউ পরীক্ষা দিতে  আগ্রহী হবেন না। ফলে এটিকে সাধারণ মানুষের কাছে নিতে এনবিআরের উদ্যোগটি সফল নাও হতে পারে।