দেশীয় কয়লা থেকে সরে থাকার নীতি আত্মঘাতী

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২১, ২২:২০

ভার্চুয়াল সংলাপে আলোচকদের অভিমত

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে গ্যাসের প্রমাণিত মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা বাড়ছে। দেশীয় গ্যাসের কারণে দীর্ঘদিন দেশে বিদ্যুতের দাম অপেক্ষাকৃত কম ছিল। এখন আমদানি নির্ভরতা যত বাড়বে বিদ্যুতের দামও তত বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। অথচ গ্যাস ফুরিয়ে আসার আগেই কয়লার ব্যবহার বিদ্যুতের সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে দেশীয় কয়লা থেকে সরে থাকা নীতি আত্মঘাতী হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন জরুরি। গতকাল ‘জ্বালানি চ্যালেঞ্জ ২০২১’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে আলোচকরা এ কথা বলেন। পাক্ষিক ম্যাগাজিন ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিদ্যুত্ বিভাগের উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ২৪ হাজার মেগাওয়াট উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। এক বছর হাতে থাকতেই গ্রিড এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে এবং সাড়ে ২৪ হাজার মেগাওয়াট উত্পাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছি। আমরা এখন নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুতের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। চলতি বছরেই বিদ্যুত্ খাতের ৫০ শতাংশ অটোমেশন হবে। সবাই মানসম্পন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ পাবে। গ্রিড বিদ্যুতে শিল্পের আস্থা ফিরবে। আমরা ‘ডাবল সোর্স’ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আমরা চাই সঞ্চালনেও বেসরকারি কোম্পানি আসুক।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানি বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ভারতের পাইকারি বিদ্যুতের বাজারে বাংলাদেশ অংশ নিতে পারলে কমদামে বিদ্যুত্ পাওয়া সম্ভব। অবকাঠামো উন্নয়ন করলে এটি করা সম্ভব। ভারতে প্রতি ইউনিট সৌর বিদ্যুত্ ৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ওরা অতিরিক্ত উত্পাদন করে বাজার খুঁজছে। বাংলাদেশ এ সুযোগ নিতে পারে। ভারতের সঙ্গে কমপক্ষে আরো দুই-তিনটি পয়েন্টে বিদ্যুত্ আমদানি সুবিধা বাড়ানো উচিত। শিল্পে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদগুলো গত্বাঁধা রয়ে গেছে। এমডি একটি প্রকল্প নিয়ে আসছেন এবং অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছেন। পরিচালকদেরও কোম্পানিকে ধারণ করতে হবে। দিকনির্দেশনা দিতে হবে। কাজগুলো যথাযথভাবে যথা সময়ে করতে হবে, তা না হলে চলবে না। তিনি বলেন, কয়লাকে বাদ দিলে চলবে না। এটি এখনো সাশ্রয়ী জ্বালানি। নিজস্ব কয়লা ব্যবহার অবশ্যই করতে হবে। ফুলবাড়ির কয়লা নিয়ে আরো কিছু স্টাডি করা দরকার। ওপেন পিট নিয়ে আইডব্লিউএম একটি স্টাডি রিপোর্ট জমা দিয়েছে সেই স্টাডিটাও আলোচনায় আসেনি। আমদানিতে ট্রান্সপোর্টেশন এবং দর ঝুঁকি রয়েছে।

এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান করিম এবং অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় আরএমআইটির অধ্যাপক ড. ফিরোজ আলম।