মির্জাপুরে নিরাপত্তাহীনতায় বন বিভাগের কর্মীরা
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আটিয়া বন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের জনপদ দিনে দিনে ফুঁসে উঠেছে। জমি ক্রয়-বিক্রয় ও খাজনা-খারিজ বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে এলাকাবাসী। আটিয়া বন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে প্রতিদিন মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশসহ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনগণ। যে কোনো সময় বন অফিস ভাঙচুরসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা হতে পারে বলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাঁশতৈল রেঞ্জ অফিসহ ছয়টি বিটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গতকাল শনিবার বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শামসুল আলম শামসু ও গায়রাবেতলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, টাঙ্গাইলসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার জমি ১৯২০ সালে সেটেলমেন্ট রেকর্ডভুক্ত হয়। সরকার ১৯২৭-২৮ সালে গেজেট-মূলে মির্জাপুরসহ আশপাশের কয়েকটি অঞ্চলের জায়গা বন বিভাগের কাছে ন্যস্ত করে। তত্কালীন এরশাদ সরকার ১৯৮২ সালে আটিয়া বন অধ্যাদেশ জারি করে। বসতবাড়িসহ সাধারণ মানুষের ১৯৬২ সালের রেকর্ডভুক্ত জমিও এই অধ্যাদেশের আওতায় আনা হয়। এই অধ্যাদেশের আওতায় বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার একর জমি রয়েছে। যুগ যুগ ধরে বাঁশতৈল, আজগানা ও তরফপুর ইউনিয়নের ৪০-৫০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ তাদের বাপ-দাদার ভিটামাটিতে বসবাস করে আসছে। আটিয়া অধ্যাদেশের কথা বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের বাড়িঘড় ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। বন অধ্যাদেশ জারি থাকায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ জরুরি প্রয়োজনে জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছেন না। এমনকি খাজনা-খারিজও বন্ধ রয়েছে। অনেক নিরীহ ও অসহায় পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। জীবন দিয়ে হলেও তারা বাপ-দাদার দেওয়া জমি রক্ষা করবেন। বন অধ্যাদেশের এই আইন বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের কাছে দাবি জানান তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে তিন ইউনিয়নে আন্দোলনে নামবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে বন বিভাগের কয়েক জন বিট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, বন অধ্যাদেশ থাকায় এলাকার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের ভয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা বিভাগীয় বনরক্ষক (কর্মকর্তা) ড. জহিরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আটিয়া বন অধ্যাদেশ আওতার বাইরে কোনো ঘরবাড়ি উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে এই অধ্যাদেশের আওতাভুক্ত সব জমিই বন বিভাগের বলে তিনি জানান।
