সিংড়ায় চলনবিলের পাবদা মাছ রপ্তানি হচ্ছে ভারতে

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৪৪

চলনবিল এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সুস্বাদু পাবদা মাছের চাষ। খুব অল্প সময়ে বেকার যুবকরা এ চাষ করে নিজের পরিবারের অভাব অনটন দুর করছে। অপরদিকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে সুস্বাদু এ মাছ এখন রপ্তানি হচ্ছে ভারতে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে শুধু ভারতে নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ মাছ রপ্তানি করা সম্ভব বলে জানান রপ্তানিকারকরা। জানা যায়, খুব অল্প চাষির মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে এখন পাবদা চাষির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। আর গেল মৌসুমে ৫০০ মেট্রিকটনের বেশি পাবদা উৎপাদিত হয়েছে। সামনের মৌসুমে উৎপাদন আরো বেশি হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। 

জানা গেছে, বিভিন্ন বেসরকারি হ্যাচারি থেকে খামারিরা পোনা সংগ্রহ করে আনেন। পরবর্তীতে সেগুলো পুকুরে মিশ্র ও দানাদার খাবার খাইয়ে বড় করা হয়। সাধারণত এক বিঘা আয়তনের একটি পুকুরে দেড় লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা যায়। পুকুর পাড় থেকেই গড়ে ৩৩০ টাকা কেজি দরে পাবদা বিক্রি হয়। সাথে পানির পরিবেশ ঠিক রাখতে পুকুরে রাখা হয় অন্য জাতের মাছ। 
পাবদা খামারি অধ্যক্ষ আব্দুল আওয়াল জানান, পাবদা মাছের গঠন ঠিক রাখতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় দানাদার খাবার। বিক্রিতেও রয়েছে সুবিধা। দেড়শ’ কিংবা ২শ মণ যে পরিমাণই মাছ ধরা হোক না কেন তা পুকুর পাড় থেকেই কিনে নিয়ে যান ঢাকা, বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বড় বড় পাইকাররা। ফলে লাভ এবং বিক্রয় সুবিধা পাওয়ায় পাবদা চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। 

কয়েকজন মৎস্যচাষি জানান, অন্যান্য ব্যবসা কিংবা পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে সহজে পাবদা মাছ চাষ করা যায়। বছরে কেউ কেউ প্রায় আড়াই লাখ টাকার পাবদা মাছ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। পাবদা মাছের সাথে আরো অন্যান্য মাছের চাষ করতে হয় পানি ঠিক রাখার জন্য। যাকে বলে মিশ্র চাষ। অপর এক খামারি জানান, পাবদা মাছ চাষে বর্তমানে বেশি আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এ মাছ বিক্রি করতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না । দেড় শ’ কিংবা ২শ’ মণ মাছ পুকুর পাড় থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে অনেক চাষি এখন এ মাছ চাষে ঝুঁকে পড়ছে। তিনি আরো জানান মৎস্য বিভাগ আমাদের বিভিন্নভাবে ট্রেনিং দিচ্ছে, কোনো সমস্যা দেখা দিলে তারা এসে পুকুরের পানি পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। 

রপ্তানিকারক রিগান জানান, প্রতি বছর চলনবিল এলাকা থেকে ৫০০/৬০০ মে: টন পাবদা বিভিন্ন জেলা এবং ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে। এ মাছ ৭ দিন ভালো থাকে। স্থানীয়ভাবে প্যাকেটজাত হয়ে বেনাপোল হয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সিংড়ার কৃতি সন্তান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের কারণে কোথায় চাঁদাবাজির শিকার হতে হয় না আমাদের খুব সহজে গাড়ি জেলায় জেলায় যায়। তিনি এ মাছ আরো দেশে রপ্তানি করতে সরকারি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতা দাবি জানান। 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লাহ ওয়ালিউল্লাহ জানান, কৃষির যে কোন সেক্টরের তুলনায় পাবদা চাষ লাভজনক। এই চাষ বৃদ্ধিতে নিয়মিত খামারিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বিক্রিতেও সহযোগিতা করছে মৎস্য বিভাগ। তিনি আরো জানান, উৎপাদিত এসব পাবদা মাছ ভারতে এলসির মাধ্যমে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশিয় বিভিন্ন বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় ভালো লাভবান হচ্ছেন খামারিরা। সাধারণত মার্চ মাসের শুরুতে পুকুরে পাবদা পোনা ছাড়া হয় এবং ছয় মাস পর থেকে তা সংগ্রহের উপযোগী হয়।


ইত্তেফাক/এমএএম