ভোলার লালমোহনে ঘুমন্ত খালা ও তার ভাগ্নির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন— সুরমা বেগম (২৫) ও খাদিজা (৯)। গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন সুরমার বড় বোন ও খাদিজার মা আংকুরা বেগমও। তিনি শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার চরভুতা ইউনিয়নের খাড়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সুরমার স্বামী রফিকুল ইসলাম এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি পার্শ্ববর্তী বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ঢালিকান্দি গ্রামের ওসমান গণির ছেলে। নিহত সুরমা খাড়াকান্দি গ্রামের জালাল আহমদের মেয়ে। খবর পেয়ে রাতেই লালমোহন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। লালমোহন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ইউডি মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
নিহত সুরমা বেগমের বোন ও শিশু খাদিজার খালা শাহিনূর বেগমের অভিযোগ, সুরমার স্বামী রফিক এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রায় ৭-৮ মাস আগে রফিক খাড়াকান্দি গ্রামে এসে ফড়িয়া ব্যবসা শুরু করে। এর সুবাদে স্থানীয় এক ঘটকের মধ্যস্থতায় সুরমাকে বিয়ে করে রফিক। পরে সুরমাকে নিয়ে রফিক স্থানীয় কর্তারহাট বাজারের একটি ভাড়া বাসায় ওঠে। সেখানে তিন মাস বসবাস করে পালিয়ে যায়। এরপর অজ্ঞাত স্থান থেকে রফিক মাঝে মধ্যে সুরমাকে ফোন করে গালমন্দ করতে থাকে এবং তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়ে দেয়। উপায়ন্তর না পেয়ে সুরমা তার বড় বোন আংকুরা বেগমের ঘরে ওঠে। তাদের মধ্যে কলহ তীব্রতর হতে থাকে। শুক্রবার রাতে সুরমা, আংকুরা ও খাদিজা একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। গভীর রাতে সিঁদ কেটে ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত তিনজনের শরীরেই পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলেই পুড়ে মারা যায় সুরমা। গতকাল দুপুরে খাদিজা দগ্ধ অবস্থায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।
স্থানীয় চরভুতা ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান টিটব বলেন, দোষীকে ধরে তার কঠিন বিচার দাবি করেছে এলাকাবাসী।
