প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ আফ্রিকার জনগণকে শোষণের জন্য সেখানে বিভিন্ন রকম কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে চীন। তাদের সম্পদ কেড়ে নিয়ে জমাচ্ছে চীনারা। এমনটাই করেছিল ইউরোপিয়ান উপনিবেশবাদীরাও। চীনও চাইছে আফ্রিকাতে আরেকটি উপনিবেশ বানাতে । আফ্রিকার ১১টির বেশি দেশে বন্দরে বিনিয়োগ করেছে চীনারা। সেখানে চীনা কোম্পানিগুলোই কাজ করছে অথবা চীনের অর্থায়নে বন্দরগুলো চলছে।
এমনভাবে চলতে থাকলে আফ্রিকা এক সময় চীনের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হবে । ফলে তারা আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জনগনের কাছ থেকে ব্যাপক সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
এ নিয়ে জাম্বিয়ান রাজনীতিবিদ মাইকেল সাটা ২০০৭ সালের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণা পত্র জমা দেন। সেখানে বলা হয়, চীনের তুলনায় ইউরোপিয়ানদের শোষণ কম ছিল। কারণ চীন স্থানীয় মানুষের কথা ভাবছে না, তারা শুধু আফ্রিকা থেকে সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বের অনেক দেশই এখন চীনের ঋণ নীতি সম্পর্ক নিয়ে অবগত রয়েছে এবং তারা এই ফাঁদে আর পা দিচ্ছে না। মিয়ানমার ইতোমধ্যে চীনা- মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর নিয়ে অনীহা দেখিয়েছে। মিয়ানমারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী দেশটিতে চীনা বিনিয়োগের বিরোধিতা করেছে।চীন মিয়ানমারের কিউকফিউ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। চীন চাইছে কিউকফিউতে বন্দর নির্মাণ করে মালাক্কা প্রনালী থেকে নিজেদের নির্ভরতা কমাতে। এই মালাক্কা প্রনালী দিয়েই চীনের বেশিরভাগ বাণিজ্য কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তবে মালাক্কা প্রণালী যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই ভয়ে চীন চাইছে এই প্রণালী থেকে নির্ভরতা কমাতে। এছাড়াও কিউকফিউতে গ্যাস এবং তেলের সংযোগ রয়েছে। এর জন্য চীন সেখানে বিনিয়োগ করতে মুখিয়ে আছে।
মিয়ানমারের উপ পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং কিউকফিউ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান উসেট অং খোলাখুলিভাবে চীনের ঋণের ফাঁদে পড়া থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।তিনি আরো বলেছেন যে, চীনের প্রজেক্ট থেকে মিয়ানমারকে অবশ্যই উপকার হতে হবে । এছাড়া মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ইউ বো বো চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ককে একটি "ঘৃণিত বিবাহ" বলে অভিহিত করেছেন।
আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন ইতোমধ্যে চীনের ৩১৮ মিলিয়ন ডলারের বিমানবন্দর তৈরির প্রজেক্ট বাতিল করয়েছে। তাঞ্জানিয়াও চীনের সঙ্গে প্রজেক্ট বাতিল করেছে। এগুলাই প্রমাণ করে যে পুরো বিশ্ব চীনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে।
করোনার বিরুদ্ধে লড়তে আফ্রিকার ১৫২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রয়োজন। এছাড়া দক্ষিণ সুদান, লিবিয়া সংক্ট করোনা সঙ্কটকে আরো ঘনীভূত করেছে।
এদিকে করোনায় চীনের অর্থনীতি গত চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের অর্থনীতি সঙ্কুচিত হয়েছে। ভবিষ্যতে বিআরআই তহবিল সরবরাহের জন্য শিগগিরই বেইজিংয়ের কোনও সম্পদ থাকবে না। অন্যান্য দেশগুলোর কাছে অপমানের করার নেশায় ধারণা করা হচ্ছে চীন নিজেরাই একদিন ঋণের জালে ডুবে যাবে এবং তার ভবিষ্যতের ক্ষতি করতে থাকবে।
ইত্তেফাক/এআর
