মোংলা বন্দর

ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বিদেশি জাহাজের আগমন

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২১, ২১:২১

গতি ফিরেছে মোংলা বন্দরে। গত পাঁচ বছরে বন্দরটি  ৪৯৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা নীট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পদ্মাসেতু ও খুলনা-মোংলা রেলসেতু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং রামপাল তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র চালু হলে বন্দরের কার্যক্রমে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের জুন মাস থেকে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি শুরু হয়। এ সিদ্ধান্তটি বন্দরের জন্য ছিল খুবই ইতিবাচক। ২০০৯-১০ অর্থ বছর থেকে মোংলা বন্দর পুনরায় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বন্দরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে মোংলা বন্দর ৬৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা নীট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়। সে বছর বন্দরে ৪৮২টি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করে। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বন্দরের নীট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৭ কোটি টাকা। আর জাহাজ আগমনের সংখ্যা ছিল ৯০৩টি। অন্যদিকে বার্ষিক হিসাবে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোংলা বন্দরে মোট ৯৩৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে।

এ সব জাহাজে সার, সিমেন্ট, ক্লিংকার, সিরামিক ক্লে, কয়লা, রামপাল ও রূপরূপ বিদ্যুেকন্দ্রের জেনারেল কার্গো ও ভারী যন্ত্রপাতি, এলপিজি গ্যাস, ফ্লাই অ্যাশ ও এডিবেল ওয়েলসহ বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী আমদানি করা হয়েছে।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে মোংলা বন্দরের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে আমদানি-রপ্তানিকারকরা মোংলা বন্দর ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। বিনিয়োগও বাড়ছে।

খুলনা উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারপারসন শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন বলেন, পদ্মাসেতু ও খুলনা মোংলা রেলসেতু চালু হওয়ার পর খুলনা অঞ্চলে ছোট-বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠাসহ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য (রামপাল-মোংলা) এবং বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, বৃহত্তর খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে সচল করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোংলা বন্দরের উন্নয়নে নানা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন।  ইতিমধ্যে মংলা বন্দরকে ঘিরে ইপিজেড, অর্থনৈতিক জোন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপন, বিমানবন্দর নির্মাণ, রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া জাহাজ বন্দরে আসার জন্য নদীর নাব্য রক্ষার্থে মাদার ড্রেজার ক্রয় করা হয়েছে। যা দিয়ে নদী খনন কাজ চলছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের (মবক) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে মোংলা বন্দরে গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মাসেতু চালু হলে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যাবে। তখন রাজধানী ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে মোংলা বন্দরের ব্যবধান অনেক কমে যাবে। সময় ও অর্থ খরচ কমে যাওয়ায় তখন ব্যবসায়ীরা এই বন্দর ব্যবহারে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে আমরা বন্দরের নাব্য সংকট কাটিয়ে উঠেছি। এখন বন্দরের হারবাড়িয়ায় ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারছে। আগামী বছরের প্রথম থেকেই বন্দরের মূল জেটিতেও এসব জাহাজ ভিড়তে পারবে। বন্দর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, বর্তমানে মোংলা বন্দরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।