আমি স্বপ্ন দেখি দারিদ্র্যমুক্ত এক বাংলাদেশের। যেখানে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হবে না কোনো মানুষকে। স্বপ্ন দেখি এমন একটি নিরাপদ দেশের, যেখানে কোনো নারীকে হতে হবে না ধর্ষিত। আরো স্বপ্ন দেখি নিরাপদ সড়কের, যেখানে সড়কে ঝরে পড়বে না আর কোনো নিরীহ মানুষের প্রাণ।
নিশ্চিত হবে নিরাপদ ইন্টারনেটের ব্যবহার। সাইবার বুলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যথাযথ আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে। ইন্টারনেটে যেন কাউকে হয়রানির শিকার হতে না হয়, কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক সহিংসতার সূত্রপাত যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু না হয়—সেই বিষয়েও লক্ষ রাখতে হবে।
আমি আমার দেশকে এমনভাবে দেখতে চাই, যেখানে সবাই মন খুলে যুক্তি দিয়ে নিজের দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারবে। যেখানে বাক্স্বাধীনতার অস্তিত্ব থাকবে, পূর্ণ নিরাপত্তাও থাকবে। আমি চাই না কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংঘর্ষে বলি হয়ে প্রাণ হারাক কোনো নিরীহ মানুষ।
আমি এমন একটি দেশ চাই, যেখানে উচ্চপদস্থ থেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষেরই জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক থাকবে। জবাবদিহিতা চর্চার অভাবে মানুষ বৃহত্তর স্বার্থের কথা না ভেবে নিজস্ব ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য অনৈতিক কাজ করে, সাধারণ জনগণকে বিপদগ্রস্ত করে—এই অবস্থার অবসান চাই। সবাইকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাদকের কালো ছোবল থেকে যুবসমাজকে সচেতন করতে হবে।
আমি স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ একদিন আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ থেকে স্বনির্ভর বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে। নিজের দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর পরিমাণ পণ্য বাইরের দেশেও রপ্তানি করবে। তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্পব্যবস্থারও উন্নতি ঘটুক সেটি অবশ্যই চাইব। একজন কৃষক তার উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন—সে প্রত্যাশাও থাকবে। কৃষি খাতে আরো বিনিয়োগ এবং কৃষি কাজের উপকরণের দাম কৃষকের সামর্থ্যের মধ্যে রাখা ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ বিতরণ সুযোগ করে দিতে হবে।
বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন সবাই দেখে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে আমাদের তরুণ সমাজ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, স্নাতক পাশ করেও লাখ লাখ তরুণ-তরুণী বেকারত্বের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছে। শিক্ষিত হয়েও অস্বচ্ছল জীবনের এই ভয়ংকর দুঃখ-দৈন্যের অবসান চাই। এমন দেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী যুগোপযোগী সৃজনশীল চিন্তার অধিকারী হয়ে দেশকে অপার সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শিক্ষা কাঠামোতে গবেষণা অন্তর্ভুক্তকরণ ও বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে শিক্ষিত লোক বাড়ছে অথচ কর্মমুখী শিক্ষিত লোক বাড়ছে না, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে শিক্ষিত বেকার। তাই উচিত কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন।
আমি চাই আমাদের সমাজে কোনো সুবিধাবঞ্চিত মানুষ থাকবে না, একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ, দারিদ্র্যমুক্ত সুখী দেশের স্বপ্ন আমি দেখি, যেখানে কোনো বেকার থাকবে না, কোনো মানুষকে তার অধিকারের জন্য মার খেতে হবে না, কোনো বিচারপ্রার্থীকে বিচারের আশায় আদালতের প্রাঙ্গণে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না, শিক্ষা-গবেষণায় আমরা এগিয়ে যাব সমৃদ্ধির এক অনন্য উচ্চতায়।
সবার কাছে নতুন বছরে প্রত্যাশা থাকবে—সবাই ঐক্যের সঙ্গে দেশকে উন্নতকরণে অংশগ্রহণ করব। সৃজনশীলতার চর্চা হবে সর্ব ক্ষেত্রে, আমরাই হব আমাদের দেশের সুনিপুণ কারিগর। চলুন, নিজেদের সততা, মূল্যবোধ, মানবিকতা, দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলি আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ।
n লেখক : শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ
