যা ঘটতে পারে ২১ সালে

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২১, ০৫:৫৯

সময়ের পরিক্রমায় বিদায় নিয়েছে ২০২০ সাল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারি থেকে মুক্ত হয়নি বিশ্ব। চলতি বছর এর পরিসমাপ্তি ঘটে কি না, সেদিকেই মূলত বেশির ভাগ মানুষের মনোযোগ থাকবে। এ বছর জীবনযাত্রা আগের বছরের তুলনায় অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে সবার প্রত্যাশা।

কোভিড নিয়ে আশার খবর নেই

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯-এর যাত্রা শুরু ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে। ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ বিষয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। তখনো পর্যন্ত বিশ্বে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ ছাড়ায়নি এবং চীনের বাইরে কোনো মৃত্যুসংবাদ পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, চিকিত্সাবিজ্ঞান মূলত একে ঘিরেই আবর্তিত হয়। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে টিকা উদ্ভাবিত হয় এবং প্রয়োগও শুরু হয়ে যায়। টিকার ব্যাপক প্রয়োগ ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নিয়ম ঠিক রাখলেও ২০২১ সাল শেষ হওয়ার আগে ওই ডব্লিউএইচওর পাবলিক হেলথ ইমারজেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন (পিএইচইআইসি) তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ বিশ্বে এখন প্রতিদিন ১০ হাজারের বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত হচ্ছে। মৃত্যুর হার প্রায় ২০ লাখের কাছাকাছি। এক বছরের মধ্যে পরিণত বয়সি সবাইকে যে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে, সেটা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।

বাইডেনের প্রথম বছর

সব ঠিক থাকলে চলতি বছরটি হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেমোক্রেটিক পার্টির জো বাইডেনের প্রথম বছর। বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে দেশটি একলা হয়ে পড়েছিল। বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রকে আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনবেন বলে অনেকের প্রত্যাশা। আবার অনেকে এটাও মনে করে যে বয়সের কারণে হোক বা রিপাবলিকান সংখ্য্যগরিষ্ঠ সিনেটের জন্য, তিনি হয়তো সবার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন না। বাস্তবতা হলো, প্রেসিডেন্টের হাতে যে ধরনের নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা সম্ভব। যেমন তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আবার ফিরে আসতে পারেন অথবা মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দিতে পারেন। তাছাড়া চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে যে দূরত্ব তৈরি হয়ম, সেটি তিনি কিছুটা হলেও ঘোচাতে পারবেন বলে অনেকের প্রত্যাশা।

থিতিয়ে পড়বে হংকং বিক্ষোভ

২০১৯ সালের জুন থেকে হংকংয়ে যে চীনবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা প্রায় শেষ হয়ে যাবে এ বছর। করোনা ভাইরাসের জন্য ২০২০ সালে সেখানে আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়ে। গত বছরের মাঝামাঝি সময় বেইজিং যেন নতুন জাতীয় নিরাপত্ত আইন করে বিক্ষোভকারীদের চূড়ান্ত কোণঠাসা করে ফেলে। ছোট আকারে বিক্ষোভ হয়তো কিছুদিন চলবে, কিন্তু গণতন্ত্রকামী আন্দোলন নতুন করে বেগবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নতুন আইনে যে কোনো বিক্ষোভ দমনে পুলিশকে যথেষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা সত্ত্বেও বেইজিং আইনটি বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে আসেনি।

অর্থনৈতিক সংকট কাটাবে ভারত

ভারতের অর্থনীতির গতি গত কয়েক বছর ধরেই স্লথ হয়ে পড়েছিল। করোনার আক্রমণ সংকটকে আরো তীব্র করে তোলে। গত বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে দেশটির অর্থনীতি রেকর্ড ২৪ শাতংশ সঙ্কুচিত হয়। সব মিলিয়ে বছর জুড়ে সঙ্কোচনের হার ছিল ৯ শতাংশ। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছর মন্দা কাটিয়ে তেজিভাব ফিরতে পারে দেশটির অর্থনীতিতে। কারণ সরকার বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিশাল প্রণোদনা দিচ্ছে। তবে এর জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্য গুনতে হতে পারে। এছাড়া অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের জন্য কোভিড পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হতে হবে।

মাদুরো এ বছরও টিকে যাচ্ছেন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাদুরোকে বিগত কয়েকটি বছর কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকটের জন্য টালমাটাল হয়ে উঠেছিল তার গদি। গত পাঁচ বছরে দেশটির অর্থনীতি ৭৫ শতাংশ সঙ্কুচিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছেন। বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়েইদো নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন দুই বছর। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতিও দিয়েছিল। কিন্তু তিনি মাদুরোর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। কিউবা, চীন, ইরান ও রাশিয়া মাদুরোর পাশে আছে।

ইরান-মার্কিন সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে

জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আশা রয়েছে তিনি ইরানের সঙ্গে করা পরমাণু সমঝোতা চুক্তিতে তার দেশকে আবার ফিরিয়ে আনবেন। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ছয়টি দেশের সঙ্গে ইরান চুক্তিটি করে। এতে ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পুরোপুরি নিশ্চয়তা বিধান করা হয়নি অভিযোগ এনে ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর নতুন করে কয়েক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সম্প্রতি বলেছেন, তার দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া হলে তারা পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করবেন। বাইডেন চুক্তিতে ফেরার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এখানে কতগুলো বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। যেমন চুক্তিতে ফিরে গেলে উপসাগরীয় মিত্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। জুনে ইরানে নির্বাচন। এতে রুহানি পুনর্নির্বাচিত না হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে বলা কঠিন।

ইত্তেফাক/এএইচপি