এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:১২

মো. মাহমুদুল হাসান

অধ্যক্ষ, আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ

নরসিংদী

প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ যারা ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে তাদের সবাইকে প্রথমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তোমরা প্রথম শ্রেণি হতে অনেক পরীক্ষায় সম্মুখীন হয়েছ। করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি উন্নত হলে যেকোনো সময় পরীক্ষা হতে পারে। তাই অনলাইন ক্লাস ও নিজে নিজে পড়াশোনার চর্চাটা বহমান রাখবে। এইচএসসি পরীক্ষা তোমাদের জন্য কঠিন কিছু হবে না। পূর্বে যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছ সেই পড়াশোনা চালিয়ে যাও।

ছাত্র জীবনে পরীক্ষা শব্দটি সব ছাত্র-ছাত্রীদের কাছেই অতি পরিচিত। কোন বিষয় বা ঘটনা সম্পর্কে ধারণা, সমর্থন, খণ্ডনকে যাচাই করার কার্যপ্রণালি হচ্ছে পরীক্ষা। অর্থাত্ পরীক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান যাচাই করা হয়।

এখন তোমাদের সামনে এইচএসসি পরীক্ষা-২০২১। এ পরীক্ষায় অবশ্যই তোমরা সফলতা অর্জন করবে। এজন্য আমি তোমাদের  পরীক্ষার প্রস্তুতির কয়েকটি বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করছি। 

১.শারীরিক

তোমরা জান ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।’ পরীক্ষা ভালো করার জন্য তোমাদেরকে অবশ্যই স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। এসময় শরীর ভালো রাখতে ব্যর্থ হলে তোমার জীবনে বড় বিপর্যয় আসতে পারে। এজন্য বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত যেমন: ফলমূল, দুধ, ডিম, বাদাম এবং প্রচুর পানি পান করবে এগুলো তোমার শক্তি ও মনোবল বাড়াবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে কারণ দেশময় করোনা ভাইরাস ও মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে। তাছাড়া স্বাস্থ্যগত কোন সমস্যা থাকলে পরীক্ষার পূর্বেই ডাক্তারের পরামর্শ নিবে। স্বাস্থ্যের ব্যাপারে তোমরা সবসময় সতর্ক থাকবে।

২. মানসিক

পরীক্ষা ভালো করার জন্য দ্বিতীয় যে বিষয়টি লক্ষ রাখতে হবে তা মানসিকভাবে শক্তিশালী অর্থাত্ আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। তুমি যা যা পড়েছ তা সঠিকভাবে খাতায় উপস্থাপন করে আসবে এটাই তোমার কাজ। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা,  হতাশা বোধ করবে না, কিছু পারি না; কিছু পারি না এমনটি ভাবা যাবে না। তোমাকে দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে। পরিস্থিতি ভালো হলে তোমাদের পরীক্ষা হবে। পরীক্ষা হলে যাবে তখন কী করবে, প্রশ্ন পাওয়ার পর যে প্রশ্ন ভালো পার তা দিয়েই লেখা শুরু করবে। পড়াশুনা ও পরীক্ষা একই সুতোয় গাঁথা। তুমি যদি মনোযোগ দিয়ে পড় তাহলে কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে আর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হলে একটা গাইডলাইন তোমরা পাবে।

৩. একাডেমিক:

প্রিয় শিক্ষার্থী, পরীক্ষার প্রস্তুতির শুরুতে দরকার একটি পরিকল্পনা। সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার যথার্থ বাস্তবায়ন ভালো ফলাফলের জন্য আবশ্যকীয় বিষয়। পূর্বে অপচয়কৃত সময়ের কথা ভুলে যাও সামনে যে সময়টুকু আছে তা কীভাবে ব্যবহার করা যায় তার সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করবে।

তোমার পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা । এই তিন ঘন্টার সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে। এজন্য তোমাকে আগে একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। তোমাদের মনে রাখতে হবে তিন ঘণ্টার সর্বোত্তম ব্যবহারই ভালো ফলাফল। কোনো সময় নষ্ট করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ আমি বাংলা প্রথম পত্রের একটি পরিকল্পনা তুলে ধরলাম। তোমাদের বাংলা প্রথম পত্রের সময় ৩ ঘণ্টা অর্থাত্ ১৮০ মিনিট। এমসিকিউর জন্য ৩০ মিনিট বাদ দিয়ে বাকি ১৫০ মিনিট সিকিউর জন্য। তোমাকে ১১ টি প্রশ্ন থেকে ৭ টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। প্রত্যেকটি প্রশ্নোত্তরের জন্য ২০ মিনিটের বেশি পাবে না। অবশিষ্ট ১০ মিনিট খাতা রিভিশনের জন্য রাখতে হবে। এভাবে প্রত্যেকটি বিষয়ের সময় বণ্টন করে নিবে।