কোম্পানিগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ২০

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২১, ২২:১৫

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসার সময় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন হাসপাতাল গেটে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চরএলাহী ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জাকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। আহতরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বেসরকারি ক্লিনিক ও নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি জানান, চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, তার ছেলে রাজিব হোসেন, মো. শরীফ, আল মাহাদী ফয়সল ও আবুল কালামকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট হাসপাতাল সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে রাজিব, ঐ ইউনিয়নের আব্দুর রবের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল মমিনের ছেলে এনাম, ওজি উল্যার ছেলে রাসেল, ধনু মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম জীবন, বেলাল হোসেন, আবুল খায়েরের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল কালাম, আব্দুল মন্নানের ছেলে আব্দুল মালেক, তার ভাই আব্দুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন, মো. এনাম, জামাল উদ্দিন, বাহারসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। মিয়া ড্রাইভার ও আবদুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরএলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাককে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আবদুল গণি বলেন, চেয়ারম্যান রাজ্জাকের ব্যক্তিগত ক্যাডার ও শিবিরের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আল মেহেদী ফয়সাল ও আবুল কালামের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরএলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন মেম্বারকে অব্যাহতি দিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মহরম আলীকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।

চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি, তার ভাই বাহার ও ভাগিনা মিন্টুর নেতৃত্বে তাদের লোকজন মিছিলে থাকা আমার ছেলে রাজিবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আমরা তাকে বাঁচাতে গেলে আমাদেরও পিটিয়ে জখম করে তারা। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।