স্মারক

দিনাজপুরের এক বেদনা বিধুর দিন

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:২৭

 

‘হে পথিক, বারেক দাঁড়ায়ে, সালাম জানাও, শহিদী আত্মারে’—মুক্তিযুদ্ধের পর দিনাজপুর মহারাজা হাই স্কুলে ভয়াবহ ট্রাজেডি স্মরণে চেহেলগাজী মাজার প্রাঙ্গণের স্মৃতিস্তম্ভের এপিটাফ। পাশেই উত্কীর্ণ ১৩৫ জন শহিদের নাম।

বিজয়ের একুশ দিন পর শান্ত দিনাজপুর শহরে ঘটে এক হূদয়বিদারক ঘটনা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পুঁতে রাখা, ফেলে রাখা এবং ছেড়ে যাওয়া মাইন, গ্রেনেড, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক দ্রব্যসহ অন্যান্য অস্ত্র সংগ্রহ করা ছিল মহারাজা স্কুলে স্থাপিত ট্রানজিট ক্যাম্পের কাজ। ১৯৭২ সালের ৬ জানুয়ারি গোলাবারুদ ও মাইন ভর্তি দুটি ট্রাক মহারাজা স্কুল-মাঠে প্রবেশ করে। ট্রাক থেকে বাংকারের ১০০ গজ দূরত্বে কমান্ডারের নির্দেশমতো বিকেল ৪টায় কিছু মুক্তিযোদ্ধা হাত বদলের সময় অসাবধানতাবশত একটি মাইন বিস্ফোরিত হলে সঙ্গে সঙ্গে বাংকারটিসহ স্কুলভবন উড়ে যায়। মাটি ২০-২৫ ফুট গভীর গর্ত হয়ে ভেতর থেকে পানি বের হতে থাকে। চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, আহতদের আর্তনাদ, রক্তের স্রোত...। ছিন্ন ভিন্ন মৃতদেহ উদ্ধারে জনগণ লণ্ঠন, টর্চলাইট, হ্যাচাক লাইট, গাড়ির টর্চলাইট জ্বালিয়ে রাতভর ব্যস্ত থাকে।

ঐ দিন সকালে ৭৮০ জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দু-এক দিনের ছুটিতে বাড়িতে এবং কেউ শহরে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। আনুমানিক ৫০০-৬০০ মুক্তিযোদ্ধা ঘটনাস্থলে মারা যান। পরিচিতদের লাশ তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা নিয়ে যান। পরের দিন ১৩৫ জনের দেহাবশেষ একত্রিত করে চেহেলগাড়ী মাজার প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষ শোক মিছিল করে গণসমাধি দেয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে মহারাজা স্কুল প্রাঙ্গণে নির্মিত স্মৃতিফলকের পৃষ্টপোষক সাবেক এমপি, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুজিবনগর সরকারের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোন ৬-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম আবদুর রহিম।

মো. কায়ছার আলী