>> জসিম উদ্দিন
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য জৈবিক চাহিদা পূরণ ও মানসিক উত্কর্ষ সাধন। একুশ শতকের শিক্ষায় মূল চ্যালেঞ্জ মানসিক উত্কর্ষ সাধনের পাশাপাশি যুব সম্প্রদায়কে জৈবিক চাহিদা মেটাতে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা। তথ্য ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে উদ্যোক্তা হতে হবে। পড়াশোনার মাধ্যম হিসেবে সফট স্কিল এবং পিপলস স্কিলের নানবিধ ব্যবহার, কম্পিউটারের নিত্য নতুন কার্যকারিতা দখলে নেওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আর এসব ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দেশব্যাপী নিরন্তর কাজ করছেন রেজওয়ান সিদ্দিকী তুহিন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এডুকেশন ইউএসএ এডভাইজার হিসেবে ইএমকে সেন্টারে, এটুআই’র এডুকেশন উইংয়ে ও জিস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করছেন। তুহিন কাজ করছেন বিভিন্ন হাই স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের সঙ্গে; যেন শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দসই বিষয় এবং লক্ষ্য নিয়ে এগুতে পারে স্বপ্নপুরণের উদ্দেশ্যে। শুরুটা বছর সাতেক আগে, যখন আন্তর্জাতিক ছাত্র হিসেবে সুইডেন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির সঙ্গে পর্তুগালে ইরাসমাস এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে গিয়ে সুইডেন এবং বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। শিক্ষা নিয়ে কাজ করাই তার ব্রত সেই বাল্যকাল থেকেই। পর্তুগালে ২০/২৫টি দেশের শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন কেমন করে চলছে সে দেশের শিক্ষা, কেন পড়ে তারা, পড়া শেষে কী করবে তারা—এসবের ধারণা তাদের কাছে স্পষ্ট। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করবে উচ্চশিক্ষায়। সেই সময়ে তারা জানে না কোন বিষয়ে পড়লে তার কী ভবিষ্যত্ হবে। অপরপক্ষে আমাদের দেশে কোন সাবজেক্টের জব মার্কেটের অবস্থান কেমন তার কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যাসেসমেন্ট না থাকায় একাংশ শিক্ষার্থী দেশের বাইরে শিক্ষাগ্রহণে পাড়ি জমায়। সে সময় তারা শরাণাপন্ন হয় বিভিন্ন এজেন্সির। সেখানে তারা প্রতারিত হয় বিভিন্নভাবে। বিশ্বব্যাপী সেরা ইউনিভার্সিটিগুলোতে কলেজ থেকেই শিক্ষার্থীদের যথাস্থানে প্রেরণ করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা হয়। পাশাপাশি এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে আরো কয়েকজন আন্তর্জাতিক কাউন্সিলরদের নিয়ে স্থাপন করেন ঢাকা কলেজ কাউন্সিলরস নেটওয়ার্ক (DCCN)। ২০১৮ সালে রেজওয়ান সিদ্দিকী তুহিন আমেরিকা সরকারের নিমন্ত্রণে ডাক পান সম্মানসূচক আইভিএলপি লিডারশিপ প্রোগ্রামে। সেখানে ওয়াশিংটন, লুইজিয়ানা, আইওয়া, বোস্টনসহ বিভিন্ন স্টেটে গোটা দশেক হাই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কলেজ কাউন্সিলরস নেটওয়ার্ক পদ্ধতি নিয়ে। আন্তর্জাতিক কলেজ কাউন্সিলিং এসোসিয়েশনের কাছে বাংলাদেশের কাউন্সিলিং প্লাটফর্মকে তুলে ধরেন। বিশেষ করে ভারত, নেপালসহ দেশের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দিয়েছেন এসব তথ্য।
