গত ১৪ অক্টোবর ২০২০ তারিখে আমি ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ১১০ টাকা দিয়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করে রিপোর্ট পাই পজিটিভ। সঙ্গে সঙ্গে ঐ রাতেই ধানমন্ডির আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে ৪০৫ নম্বর কেবিনে অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে ভর্তি হই। এই হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা নিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। হাসপাতালের অভিজ্ঞতা বড়ই বেদনাদায়ক। ১৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর এই ১১ দিন চিকিত্সার জন্য আমাকে সর্বমোট সাড়ে চার লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়াও অ্যাটেনডেন্ট থাকার কারণে তাদেরকে প্রতিদিন ২৫০০ টাকা করে ১১ দিনে আরো ২৭,৫০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। হাসপাতালের বিল হাতে পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এই কয়দিনে ডক্টরস বিল ৪২,৮০০ টাকা, হাসপাতালের বিল ১,৮১,৮৫০ টাকা, ইনভেসটিকেশন বিল ৩৩,৯১৫ টাকা এবং ওষুধের বিল ১,১৬,৪৮৯.৩৬ টাকা; সঙ্গে অ্যাটেনডেন্টবিল ২৭,৫০০ টাকা এবং অন্যান্য সার্ভিস চার্জ ও ভর্তির জন্য আলাদা বিলসহ ২৩,১১৩ টাকা, পরে আরো পরীক্ষার বিল তো আছেই অর্থাত্ সর্বমোট প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা এই করোনাকালে দিতে হয়েছে। বহু আকুতি-মিনতি করা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি টাকাও ছাড় দেয়নি। আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধার-কর্জ করে ও তাঁদের সহযেগিতায় হাসপাতালের সম্পূর্ণ বিলের টাকা আমার পরিবারকে পরিশোধ করতে হয়। আমার থেকে এই হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষা বাবদ তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক বিল কেন, সে বিষয়ে তদন্ত করে অতিরিক্ত বিলের টাকা আমাকে ফেরত প্রদানের উদ্যোগ নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী
১৭ হরিচরণরায় রোড,
ফরিদাবাদ-গেণ্ডারিয়া, ঢাকা ১২০৪
