দীর্ঘ দীর্ঘ দিনের চাওয়া এখন বাস্তবায়ন হচ্ছে। সোনা দিঘির পশ্চিম পাড়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে স্কুলের পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহ ভেঙে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন সুন্দর চতুষ্কোন জায়গা দৃশ্যমান। উত্তর ও পশ্চিমে চওড়া রাস্তার ধারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেষ্ঠিত জায়গায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সোনা দিঘির ধারে অবস্থিত হওয়ায় পূর্ব দিকে অবারিত আকাশের উপস্থিতি। দক্ষিণ দিকে বেঢপ বাণিজ্যিক ভবন আকাশ ঢেকে আছে। উত্তর পশ্চিম দিকে ভবনের সারি। সে কারণে শহিদ মিনার সোনা দিঘি পাড়ে পশ্চিমমুখী করে নির্মাণ যুক্তিসঙ্গত। মিনার বেদি উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত হবে। ফলে অনেক মানুষ একসঙ্গে শহিদ মিনার বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে পারবে।
শহিদ মিনার চত্বরের প্রাচীন গাছগুলোর গোড়া বাঁধিয়ে গোটা চত্বর মনোরমভাবে সাজিয়ে তুলতে হবে। চার দিক থেকে আগত বিশেষ করে হুইল চেয়ার ব্যবহারকারীগণ নিজেরাই যেন সরাসরি বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য দিতে পারেন, সেজন্য চাই র্যাম্পসহ রাস্তা। যা হবে বাংলাদেশে প্রথম। গোড়া বাঁধানোর ফলে চত্বর জুড়ে বসার জায়গা হবে। গাছগুলো সংরক্ষণ হবে। এছাড়াও জায়গা বুঝে বুঝে চত্বরে শিউলি ও বকুল গাছ লাগাতে হবে। তাছাড়া শহিদ মিনারের উত্তর ও দক্ষিণে পলাশ গাছ লাগাতে হবে। এর বাড়তি চত্বরে ঘটাতে হবে কূষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়ার সমারোহ। ফুলে ফুলে ছেয়ে ফেলতে হবে শহিদ মিনার চত্বর।
শুধু দিবস পালনে সীমাবদ্ধ না রেখে শহিদ মিনার চত্বরকে সারা বছর সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচলনায় কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। সেজন্য শহিদ মিনার চত্বরের দক্ষিণ দিক ঘেঁষে বাণিজ্যিক ভবন লাগোয়া পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত একতলা ভবন দরকার, সেখানে থাকবে পাঠাগার ও মিউজিয়াম। এর সামনেই তৈরি করতে হবে দেশের প্রথম শহিদ স্মৃতি স্তম্ভের অবিকল প্রতিকৃতি।
মুস্তাফিজুর রহমান খান (আলম)
সিনিয়র সাংবাদিক, অ্যাডভোকেট ও রাজনীতিক, রাজশাহী
