আগামী মাসের মধ্যে বহুল আলোচিত স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণ তথা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল মঙ্গলবার ব্যবসয়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অবশ্য এলডিসি থেকে উত্তরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে আগামী ২০২৪ সালে। তবে আগামী মাসের ২১ থেকে ২৬ তারিখে জাতিসংঘের এ-সংক্রান্ত কারিগরি কমিটির (সিডিপি বা কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। ঐ সভায় কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে কোন কোন দেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশ করবে। ঐ সুপারিশের মাধ্যমে জানা যাবে, কোন কোন দেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে সম্ভবত সে বিষয়টি বুঝিয়েছেন।
সিডিপির দুটি পর্যালোচনায় যে কোনো দেশের এলডিসি থেকে উত্তরণসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। ইতিমধ্যে ২০১৮ সালের পর্যালোচনায় বাংলাদেশ তা পূরণ করেছে বলে স্বীকৃতি মিলেছে। আগামী মাসে পর্যালোচনার জন্যও বাংলাদেশের প্রস্তুতি রয়েছে। সরকারও চায় এলডিসি থেকে উত্তরণ। ফলে সিডিপির কারিগরি কমিটির সভায় বাংলদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ পেতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে পারে। এতে ধাক্কা খেতে পারে রপ্তানি আয়।
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ এ পর্যালোচনা পিছিয়ে দেওয়া কিংবা করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সুবিধা যতটা দীর্ঘ সময় নেওয়া যায়, সরকারকে সেই কৌশল নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে ধাক্কা সামলাতে দ্বিপক্ষীয় কিংবা বহুপক্ষীয় এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) বা পিটিএ (অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি) করার প্রস্তুতির কথাও বলে আসছেন।
ডিসিসিআই কর্তৃক আয়োজিত বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সর্ববৃহত্ তিন দিনব্যাপী অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়ীদের সম্মেলন ‘ডিসিসিআই বিজনেস কনক্লেভ ২০২১’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিডার (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলামসহ ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআইয়ের নতুন নির্বাচিত সভাপতি রিজওয়ান রহমান।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, সার্ক ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার ‘ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি’ নীতি গ্রহণ করেছে।
‘ডিসিসিআই বিজনেস কনক্লেভে’ বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২২৭টি ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা অনলাইনে ১৭৬টি বিটুবি ম্যাচ-মেকিংয়ে অংশগ্রহণ করছেন; যেখানে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত, হালকা প্রকৌশল, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা খাত প্রাধান্য পাচ্ছে।
ডিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ছাড়াও বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার এবং ১০টি দেশের প্রায় ২০০ জন উদ্যোক্তা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনে অনলাইনে যোগদান করেন।
