বিদেশি মদে স্পিরিট মিশিয়ে বিক্রি, গ্রেফতার ৪

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২১, ১১:০১

অধিক লাভ এবং কাস্টমার পাওয়ার আশায় বিদেশী মদের সাথে রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ দেশীয় কিছু উপকরণ মিশিয়ে রিপ্রোডাকশন করতো স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা। উক্ত রিপ্রোডাকশন নিজস্ব লোকজন দিয়ে শহরের তরুণ গ্রাহকের আস্তানায় পৌঁছে দেয়া হতো। ইংরেজি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ওই মদ পান করে রাজশাহীতে ছয় তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ এমন তথ্য দিয়েছে।

পুলিশের হাতে গ্রেফতার চারজন হলেন- নগরীর বোয়ালিয়া থানার সাগরপাড়ার পবিত্র সিংয়ের ছেলে পরিমল সিং (৬০), একই পরিতোষ সিংয়ের ছেলে বাপ্পা সিং (২৮), সাগরপাড়া বল্লভগঞ্জের হাসেম আলীর ছেলে সাজু (৩০) এবং রাজপাড়ার সিপাইপাড়ার আবদুর রউফ ওরফে মতিনের ছেলে ইফতেখার হোসেন ওরফে সুমন (৫০)।

জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাত থেকে রবিবার বিকাল পর্যন্ত ছয় তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এরা হচ্ছে- নগরীর হোসনীগঞ্জের ছাত্রদল নেতা ফয়সাল হোসেন (২৮), জেলার বাগমারা উপজেলার শান্তাপাড়ার সজল (২৫), নগরীর বাকির মোড়ের সাগর (২৫), হেতমখাঁ’র তুহিন (২৬), কাদিরগঞ্জের মুন আহমেদ (১৮) ও দড়িখড়বোনার ইশাকুল ইসলাম (২২)। মদপানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নারীসহ আরও ছয় তরুণ রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রত্যেক মাদক বিক্রেতার কাছ থেকে আলামত হিসেবে তিনটি কাঁচের তৈরি মদের খালি বোতল, টিউনিং মদ (মিশ্রিত মদ) তৈরির তরল পদার্থ ভর্তি একটি প্লাস্টিকের তৈরি বোতল, তেতুলের বিচি ভর্তি একটি কাঁচের বোতল, কমলা রঙের ৫০ গ্রাম গুড়ো রঙ, ২৯টি টিন ও প্লাস্টিকের তৈরি কর্ক, ১১টি কর্কের নিব, ৫০টি কর্কের প্রটেকশন এবং  অ্যালকোহল ভর্তি দুটি প্লাস্টিকের সাদা বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, মদপানে মৃত্যু এবং অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনায় আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের নির্দেশ এবং পরিকল্পনায় বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে অবৈধ মদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এর মধ্যে বোয়ালিয়া মডেল থানার একটি দল মৃত ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন এবং চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এছাড়া গোপন সংবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা অতিরিক্ত লাভের আশায় বিদেশী মদের সাথে রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে এক বোতলকে একাধিক বোতলে পরিণত করেছিল। এই অবৈধ মিশ্রিত মদ মৃত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করেছিল। অসুস্থ ব্যক্তিদেরকে গ্রেফতার ব্যক্তিদের ছবি দেখানো হলে তারাও এদেরকে মদ বিক্রেতা হিসেবে সনাক্ত করে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। অবৈধ মদের উৎস সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্য কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এমআর