বেনাপোল বন্দরের প্রাচীরে অবরুদ্ধ ৬৫ পরিবার!

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২১, ২১:২২

কাজী শাহ্জাহান সবুজ, বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি চায় বেনাপোল বন্দরের টিটিআইয়ের (ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল) পশ্চিম পাশে বসবাসরত ৬৫টি পরিবার। বায়ুদূষণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে তারা। ২০০৭ সালের ১১ নভেম্বরের আগে এই জায়গাটি ছিল উন্মুক্ত। পরে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরকে সুরক্ষিত রাখার জন্য গ্রামের পাশ দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করে। এতে আটকা পড়ে ৬৫টি পরিবারের পাঁচ শতাধিক মানুষ। পরে তারা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বাঁচতে প্রাচীরের কয়েক জায়গা ভেঙে যাতায়াত শুরু করে। কিন্তু এভাবে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অসুস্থ রোগী ও শিশুদের ভোগান্তির শেষ নেই। তাছাড়া রাত হলেই শুরু হয় ভারত থেকে আমদানিকৃত লোহা ও লৌহজাতীয় পণ্যের আনলোডের বিকট শব্দ ও কম্পন। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী কয়েকবার বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টির সমাধান চেয়ে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত বন্দর তরফে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তাছাড়া বন্দরের পাশে বসবাসকারী ইসরাইল সরদারের বাড়ির সামনেই বসানো হয়েছে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরীক্ষার স্ক্যানিং মেশিন। স্থানীয়দের দাবি এই মেশিন থেকে বের হয় দূষিত বায়ু। আর আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকের ইঞ্জিনের কালো ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ তো নিত্যদিনের ঘটনা। ঐ এলাকার বাসিন্দা ইসরাইল সরদার ও ব্যবসায়ী এনামুল হক লিটন জানান, এলাকার কোনো বাড়িতে এখন আর ভাড়াটিয়ারা থাকতে চায় না। ভাড়াটিয়ার অভাবে অনেক বাড়ি পড়ে আছে। বন্দরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে এলাকাটি অধিগ্রহণ করলে সব সমস্যার সমাধান হবে নিশ্চিত। অবরুদ্ধ হয়ে থাকা মানুষগুলোও রেহাই পাবে।

শার্শা উপজেলা (নাভারন) স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহম্মাদ ইউসুফ আলী জানান, দূষণের কারণে বন্দরের পাশে মানুষের বসবাস ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে প্রথমত বায়ুদূষণ বেশি। দ্বিতীয়ত পণ্য নামানো-ওঠানোর ফলে কম্পনও হতে থাকে। এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 

যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশীদ জানান, ঐ এলাকায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত টিম কাজ করছে। বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আবদুল জলিল বলেন, এলাকাবাসীর সমস্যাসম্পর্কিত একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা  চলছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সুপারিনটেনডেন্ট প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান আলী জানান, বন্দরের (টিটিআই) পশ্চিম পাশে ৬৫টি পরিবারের পাঁচ শতাধিত মানুষের সমস্যার কথা আমরা জেনেছি। বন্দরের প্রাচীর নির্মাণের ফলে তারা আটকা পড়েছে। তাছাড়া এলাকাটি বন্দর এলাকায় হওয়ায় বায়ুদূষণসহ বসবাসে নানা সমস্যাও আছে। এসব সমস্যা সমাধানে আমরা চেষ্টা করছি।