স্বঘোষিত নারী চিকিত্সক ও বাড়ি মালিকের অর্থদণ্ড
রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
রাণীনগর উপজেলার কুজাইল বাজার সংলগ্ন হিন্দু পাড়ায় অনুমোদনহীন ছয় শয্যার অবৈধ চিকিত্সালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় বারের মতো এসব অবৈধ চিকিত্সালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। চিকিত্সালয় স্থাপন করে অর্শ্ব (পাইলস) রোগের ঝুঁকিপূর্ণ শল্য চিকিত্সা কার্যক্রম পরিচালনা করার অপরাধে অমলা সরকার নামের হাতুড়ে ও স্বঘোষিত নারী ডাক্তারকে এবং নিজের বাড়িকে অনুমোদনবিহীন চিকিত্সাকেন্দ্র হিসেবে ভাড়া দেওয়ায় বাড়ির মালিক লিয়াকত আলীকে মোবাইল কোর্টের আওতায় যথাক্রমে ১০ হাজার ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব অবৈধ চিকিত্সা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রায় ১০ বছর ধরে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এ ধরনের জটিল চিকিত্সা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন মৃত-খোকনের স্ত্রী অমলা সরকার। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত বছরের নভেম্বর মাসের ২৪ তারিখে প্রথম সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঐ অভিযানে একই এলাকার মৃত শিমন ডাক্তারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চিকিত্সার কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়। এই জন্য শিমন ডাক্তারের স্ত্রী জয়া সরকারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই স্থানে মৃত খোকন ডাক্তারের স্ত্রী অমলা সরকারের ভাড়া করা চিকিত্সালয়ে অভিযান চালিয়ে চিকিত্সার কাজে ব্যবহূত কিছু উপকরণ উদ্ধার করা হয়। ঐ অভিযানে অমলা সরকার ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যান। তাই বাড়ির মালিক লিয়াকত আলী মোল্লাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে এই দুই চিকিত্সালয়ে যেন আর কোনো দিন কোনো প্রকারের চিকিত্সা সেবা দেওয়া না হয় সেই মর্মে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়। অভিযানের পর কিছুদিন এই অবৈধ কর্মকাণ্ডগুলো বন্ধ রাখা হলেও সম্প্রতি আবার তারা অপারেশনের কর্মকাণ্ড পুরোদমে শুরু করেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয়বারের মতো এই দুটি অবৈধ চিকিত্সালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার ঐ দুটি হাতুড়ে ডাক্তারের অবৈধ চিকিত্সালয়ে অভিযান পরিচালনা করে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি তাদের এই সব কর্মকাণ্ড পুরোদমে বন্ধ রাখার কঠোর নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু তারা আবার তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডগুলো শুরু করেছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অফিসের একজন স্টাফকে ছদ্মবেশে অমলার চিকিত্সালয়ে চিকিত্সা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়। এতে নতুন করে তাদের শুরু করা কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া গেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় মৃত খোকন ডাক্তারের স্ত্রী অমলা সরকারের ভাড়া করা চিকিত্সালয়ে অভিযান চালিয়ে পুনরায় চিকিত্সার কাজে ব্যবহূত কিছু উপকরণ উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে বাড়ির মালিককে পুনরায় বাড়ি ভাড়া দেওয়ার অপরাধে ৩০ হাজার ও অমলা সরকারকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে আরেক হাতুড়ে ডাক্তার মৃত শিমন ডাক্তারের স্ত্রী জয়া সরকার উপস্থিতি টের পেয়ে তার বাড়িতে রাখা অপারেশনের রোগীদের অন্য স্থানে রেখে বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। তাই তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে যদি তারা আবার এই সব কর্মকাণ্ড শুরু করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
