বন্ডের বিপরীতে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা পুনর্বিবেচনার দাবি প্রবাসীদের

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:৩৬

বন্ডের বিপরীতে সমন্বিত বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ১ কোটি টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এনআরবি সিআইপি অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশে প্রবাসীদের মরদেহ বিনা মূল্যে বহন করার সুবিধা পুনঃপ্রবর্তন এবং লেবাননে অবৈধ বসবাসরত অসহায় বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে স্বল্পমূল্যে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি রাখেন এনআরবি সিআইপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান। এতে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি থাতেইয়ামা কবির, সাধারণ সম্পাদক কাজী সারোয়ার হাবীব, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী এবং অর্থ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুর রহমান।

মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান বলেন, আমাদের জাতীয় পতাকাবাহক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনতে বিনা মূল্যে বহনের ক্ষেত্রে করোনাকালে আগেই স্থগিত ঘোষণা করে, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কম আয়ের প্রবাসী ভাইবোনের অনেক মরদেহ জমা পড়ে আছে, যেগুলো আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ওয়েজ আর্নাস ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের বিপরীতে সমন্বিত বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ১ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নির্ধারণ করেছে। যার ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বন্ড বিধির আলোকে ১৯৮১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪০ বছরে বন্ডে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় থেকে নিশ্চিত বিনিয়োগ মনে করে বন্ড ক্রয় করেন এবং তারা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না বিধায় বন্ডকে অধিকতর সুরক্ষিত বিনিয়োগ মনে করেন। সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বাধানিষেধ না থাকায়, প্রবাসীরা বৈধ পথে নিজ নিজ প্রবাসে উচ্চ হারে কর প্রদানের মাধ্যমেই এ অর্থ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে আসছেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রবাসীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি তাদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আস্থা হারিয়ে ফেলবেন। এতে বৈদেশিক আয়ের প্রধান উত্স রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় প্রেরণে এবং অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তাই বন্ডের বিপরীতে সমন্বিত বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ১ কোটি টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনাপূর্বক তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।