সিরাজগঞ্জের যমুনার চরে এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। পলিমাটিতে তুলনামুলক কম খরচ ও পরিশ্রমে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। যমুনা নদীর তীরবর্তী বেলকুচি, কাজীপুর, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে মৌসুমি মরিচ চাষ বেশি হয়েছে। তবে কাজীপুরের নাটুয়ারপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, তেকানিসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে এ মরিচ চাষ হয় বেশি ।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার জেলার নয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৬৩৬ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে বেশি মরিচ চাষ করেছেন কৃষকেরা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা মরিচ চাষে নেমে পড়েন। বন্যায় পলিমাটির উর্বরতা থাকায় কম খরচে মরিচ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে।
নাটুয়াপাড়া চরের কৃষক আবুল হোসেন জানান, বন্যার পরে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে মরিচ চাষ এবার কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। মরিচ চাষ নিয়ে কৃষকরা হতাশায় ছিলেন। তবে মরিচ চাষ কিছুটা বিলম্বিত হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে রোপিত চারা বড় হয়েছে। এছাড়া রোগবালাই না থাকায় এবার মরিচের ফলন বাম্পার হয়েছে। আশা করছি বিঘাপ্রতি ৪০/৫০ মণ কাঁচা মরিচ উঠবে এবং বিঘাপ্রতি ১০/১২ মণ শুকনা মরিচও ঘরে উঠবে। তেকানি চরের কৃষক আয়নাল হক জানান, মরিচ চাষে তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন। প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষে খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আর বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকায়।
কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, বন্যার পর মরিচ চাষের জন্য ১ হাজার ২০০ মরিচ চাষিকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জাত ছাড়াও চরাঞ্চলে বেড গোল্ড, বিজলী প্লাস, বালিজুরি জাতের মরিচ চাষ হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হানিফ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার মরিচ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সঙ্গে বাজার ভালো থাকায় কৃষকের মুখেও ফুটেছে হাসি।
