রাজধানীতে ও লেভেলের ছাত্রীকে ধর্ষণ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ০১:০৮

রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকায় ধর্ষণের ফলে ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ভিকটিমের নাম আনুশকাহ নূর আমিন (১৮)। সে মাস্টার মাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের ছাত্রী। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ আনুশকাহর বন্ধু দিহানসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে।

স্বজনদের দাবি, আনুশকাহকে বাসায় ডেকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে দিহান। তার বাবা আল আমিন মেশিনারি ব্যবসায়ী। ধানমন্ডির ১৩/এ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাড়িতে আল আমিন সপরিবারে থাকেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে আনুশকাহ বড়।

কলাবাগান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ঠাকুর দাশ জানান, দিহানের সঙ্গে আনুশকাহর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে দিহানের সঙ্গে দেখা করার জন্য কলাবাগানের ডলফিন গলির বাসায় আসেন মেয়েটি। সে সময় দিহানের বাসায় তার পরিবারের কেউ ছিল না। দিহান মদপান করে মাতাল হয়। ঐ সময় দিহানের সঙ্গে তার আরো তিন বন্ধু ছিল। মেয়েটিকে দিহান উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে দিহান চিন্তিত হয়ে পড়ে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুপুরে আনুশকাহকে দিহান ও তার বন্ধুরা আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকাল সোয়া ৩টায় হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

আনুশকাহর চাচাতো ভগ্নিপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, আনুশকাহ কোচিং করত। কোচিংয়ে যাওয়ার নাম করে আনুশকাহ বাসা থেকে বের হয়। কৌশলে আনুশকাহকে বাসায় নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে দিহান। হত্যার পর দিহান ও তার বন্ধুরা আনুশকাহকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হত্যার বিচার দাবি করেন তিনিসহ স্বজনরা। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল রাতে কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, দিহানের বাসায় স্কুলছাত্রীর রক্তক্ষরণের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে। বাসার বিভিন্ন জায়গায় রক্ত দেখা গেছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।