তালায় সবজির বাম্পার ফলন, দামে স্বপ্নভঙ্গ চাষিদের

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:০৭

বুকভরা আশা আর চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে ফুলকপি চাষ করেছিলেন কৃষক শহর আলী। শীতের সবুজ গালিচা ভেদ করে তারার মতো ফুটেছিল ফুলকপি। সোনালী রঙের ফুলকপি দেখে স্বপ্ন রাঙিয়ে নিয়েছিলেন কৃষক শহর আলী। কিন্তু সেই স্বপ্ন মলিন হয়ে গেছে তার। বাজারে ফুলকপির দাম নিয়ে চলছে রীতিমত তামাশা। কৃষক শহর আলী সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের মৃত এবাদুল ইসলামের পুত্র।

কৃষক শহর আলী জানান, অনেক আশা নিয়ে তিনি দেড় বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছিলেন। এতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু ফুলকপির দাম নেই বাজারে। ফুলকপি খেত থেকে তুলে বাজারে নেয়া পর্যন্ত যে খরচ তাও উঠছে না। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা। একমন ফুলকপি বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বাজারে ফুলকপি নিয়ে গেলে বেপারীরা ঠাট্টা করে। কেউ কেউ এসে মজা করে ফুলকপি মাথায় ধরে।

একই কথা বলেন, একই এলাকার সোবহান গাজীর ছেলে আনোয়ার গাজী। তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। প্রতিবিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৭হাজার টাকা। এতে তিন বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০হাজার টাকা। কিন্তু সর্বসাকুল্যে তিন বিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি করেছেন মাত্র ১৩ হাজার টাকায়। গ্রামের বাজারে দাম কম। অথচ শহরের বাজারে দাম বেশি। গ্রামের বাজারে যে ফুলকপি আড়াই টাকা কেজি শহরের বাজারে তার দাম ৮-১০টাকা। লাভের অংশ খেয়ে ফেলছে মধ্যস্বত্বভোগীরা।

এদিকে বেগুন চাষি আরিজুল ইসলাম ছালাম, আফজাল হোসেন, আবু জাফর জানান, স্থানীয় বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১০ টাকা। সেই বেগুন সাতক্ষীরায় বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। কৃষকদের খেত থেকে পাইকারি বিক্রেতারা কিনছেন ৬-৮ টাকা কেজি দরে। কৃষক ও ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে একটি চক্র। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
কৃষকরা বলেন, এ বছর বর্ষার কারণে জমিতে বেগুন, ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির চারা একাধিকবার রোপণ করতে হয়েছে। সবজি চাষে ব্যাপক খরচ ও খাটা-খাটুনি করতে হয়।

তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শুভ্রাংশু শেখর দাশ জানান, চলতি রবি মৌসুমে তালা উপজেলায় ১৬৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ হয়েছে। সবজির বাম্পার ফলনের কারণে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সবজি পাঠানো হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমআর