বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কার্যক্রম শুরুর পর থেকে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত একাধিক পুলিশ সদস্য ঘুরে-ফিরে বছরের পর বছর একই এলাকায় কর্মরত থাকছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর দীর্ঘদিন একই এলাকায় কর্মরত থাকায় পুলিশের এসব সদস্যরা গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল বাড়িসহ নানা সম্পত্তি। সম্প্রতি বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের নির্যাতনে রেজাউল করিম রেজা (৩০) নামে শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যুতে এসআই মহিউদ্দিন মাহির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাগরদী রূপাতলীবাসী। একই এলাকায় ঐ এসআইয়ের একটি বহুতল ভবন রয়েছে। এতে তার আয়ের উত্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর নানা অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় বিব্রত মহানগর পুলিশ।
জানা গেছে, গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইট, বালু ও খোয়া ব্যবসায়ী মো. হারিছুল ইসলাম (করাল) এসআই মহিউদ্দিন মাহির বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় হয়রানি মামলা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। ঐ আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন :‘কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পাওয়া এসআই মহিউদ্দিন তিন বছর পূর্ব থেকে একই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে পাশের দাবাড়ি মসজিদসংলগ্ন জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। মাহি সেখানকার সাড়ে ছয় শতক জমি ১ কোটি টাকায় কিনে তারসহ পাশের একাধিক ব্যক্তির জমি দখল করতে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা ও ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে আসছেন। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে-বেনামে তিনি অঢেল সম্পত্তি গড়েছেন।’
সরেজমিনে জানা গেছে, নগরীর সাগরদী, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরদারপাড়া, হাসপাতাল রোডের নতুন বাজার এলাকা, নগরীর চকবাজার-সংলগ্ন হাটখোলা এলাকাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জমি ক্রয় করে একাধিক পুলিশ সদস্য স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এতে করে এলাকার নানা বিষয় নিয়ে তারা জড়িয়ে পড়ায় ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনা। এ বিষয়ে অনেক সময় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য এলাকায় কর্মরত থাকায় প্রভাব খাটিয়ে তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছেন।
ইতিপূর্বে ২০১৭ সালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত থাকাকালে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় এবং মামলা দায়ের হওয়ায় তত্কালীন এসআই চিন্ময় মিত্রকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায় আদালত। এছাড়া ২০১৮ সালে তুচ্ছ ঘটনায় বেসরকারি টেলিভিশনের এক ক্যামেরাপারসনকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের পর ইমেজ সংকটে পড়ে গোয়েন্দা বিভাগ। সম্প্রতি রেজাউল ‘হত্যাকাণ্ডে’র পর মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা মাঠ পর্যায়ে কর্মরতদের বিষয়ে আরো খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান ইত্তেফাককে জানান, এসআই মহিউদ্দিন মাহির বিষয়ে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, সরকারি কাজে নিয়োজিতরা যে এলাকায় কর্মরত থাকবে, সে এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলে এলাকার নানা স্থানীয় সমস্যায় জড়িয়ে পড়তে পারে। এ বিষয়গুলো পুলিশের প্রশাসনিক বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
বরিশাল মানবাধিকার জোটের সভাপতি ডা. সৈয়দ হাবিবুর রহমান জানান, সাধারণ পুলিশ সদস্যদের আয়ের বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন কিংবা পুলিশ বিভাগের খতিয়ে দেখা উচিত। বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) জেলা সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা জানান, অনৈতিক কাজ থেকে পুলিশ সদস্যদের বিরত রাখতে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে।
