দিহানের ভাইয়ের বিরুদ্ধেও উঠেছিল হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৩:১৬

রাজধানীর কলাবাগানে ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার তানভীর ইফতেখার দিহানের (১৮) বড় ভাই সুপ্ত সরকারের বিরুদ্ধেও উঠেছিল হত্যার অভিযোগ। ওই মামলার সাক্ষীরা বলছেন, টাকার বিনিময়ে মামলাটি আপস করেছেন সুপ্তর সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার বাবা আব্দুর রউফ সরকার।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দিহানেরা তিন ভাই। তাদের বাবার নাম আব্দুর রউফ সরকার। তিনি রাজশাহী জেলার অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার রাতুগ্রাম গ্রামে তার বাড়ি। তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। বড় ছেলে সুপ্তকে নিয়ে আবদুর রউফ সরকার গ্রামে থাকেন। মা সানজিদা সরকার শিল্পীর সঙ্গে দিহান ও তার মেজ ভাই নিলয় ঢাকায় থাকেন। নিলয় একটি ব্যাংকে চাকরি করেন।

দিহানের স্বজনরা জানান, দুর্গাপুরের রাতুগ্রামের বাড়ি ছাড়াও জেলার বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে তাদের আরো একটি বাড়ি আছে। রাজশাহী শহরেও আছে দুটি বাড়ি। এর একটি সাগরপাড়া এলাকায়। আরেকটি বাড়ি নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায়। ঢাকায় রয়েছে ফ্ল্যাট। দিহানের মা শিল্পীও ঢাকায় বেপরোয়া চলাফেরা করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই দিহান ঢাকায় থাকে। তাই তার সম্পর্কে গ্রামের মানুষের ধারণা কম। তবে তার বড় ভাই সুপ্ত মাদকাসক্ত। ২০০৯ সালেই তার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেই মামলার আপস করা হয়। পুলিশ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুপ্তর স্ত্রীর নাম ছিল রুনা খাতুন। তার বাবার বাড়ি কিশোরগঞ্জ। আর নানির বাড়ি রাজশাহী নগরীর হোসনীগঞ্জ মহল্লায়। রাজশাহীতেই সুপ্তর সঙ্গে তার পরিচয়। এরপর বিয়ে। এর কিছুদিনপরই সুপ্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রুনাকে বিষ মুখে ঢেলে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে রুনার মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছিলেন। আর ওই সময় আসামিদের শাস্তির দাবিতে রুনার লাশ নিয়ে রাজশাহী শহরে মিছিলও হয়েছিল।

রুনার নানির বাড়ির এলাকার এক নারী হত্যা মামলার সাক্ষী। শুক্রবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকেই রুনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। শেষে তার মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুইদিন পর রুনা হাসপাতালে মারা যান। আমরা তার লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করি। আমরা রুনার স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যদের শাস্তির দাবি জানাই। মামলাটা চলছিল। পরে তারা টাকা দিয়ে মীমাংসা করে নেয়। এরপর পুলিশ মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয়।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার গ্রুপ স্টাডির কথা বলে ডেকে নিয়ে ‘ও’ লেভেলের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে দিহান। তাকে একমাত্র আসামি করে মেয়েটির বাবা ধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, ধর্ষণের পর রক্তক্ষরণ হলে নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান অভিযুক্ত নিজেই। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসকরা মেয়েটির অবস্থা বেগতিক দেখে কৌশলে থানায় ফোন করে জানান। পরে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে দিহানকে আটক করে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দিহানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। শুক্রবার আসামি দিহানকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তুললে তিনি দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পাশবিকতা ও নিষ্ঠুরতার সঙ্গে হত্যা করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানায় আইনাজীবীরা। 

ইত্তেফাক/এএএম