বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে আমার বক্তব্য স্পষ্ট, আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব এবং করে যাব। সত্য কথা বলে কবরে যেতেও প্রস্তুত আছি। প্রশাসন থেকে কোনো সহযোগিতা আমি পাচ্ছি না। আমি সব অনিয়মের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলব। জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমি এ নির্বাচন করছি। আমি যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলি, অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলি, আমি নোয়াখালীর ত্যাগী নেতাদের পক্ষে কথা বলি, তখন আমাকে জাতীয়ভাবে বলা হয় পাগল ও উন্মাদ। আমি আগামী ১৬ তারিখে বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে প্রমাণ করব, আমি পাগল নাকি ভালো। শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চত্বরে, বসুরহাট পৌরসভার টিএন্ডটি রোডে, পৌরসভার বটতলায় পথসভায় ও পৌর মিলনায়তনে কর্মী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।’
আবদুল কাদের মির্জা বলেন, কাম্পানীঞ্জের প্রশাসনের ওপর দোষ দিয়ে লাভ নেই, তাদের কিছু করার নেই। এরা মাসোয়ারা খায়, তাদের কাছে কি আপনারা ন্যায়বিচার পাবেন? নোয়াখালীর ডিসি এমন একজনের নাম লেখা মাস্ক পরেছেন, যিনি অপকর্মকারী।
তিনি বলেন, আমি সারা দেশের কথা বলিনি। শুধু নোয়াখালী ও ফেনীর অপরাজনীতির কথা বলেছি। আওয়ামী লীগের সাবেক এক মন্ত্রীর নামোল্লেখ না করে তিনি বলেন, আগে উনি মন্ত্রী ছিলেন, এখন নেই। তিনি কী কী অনিয়ম করেছেন দেশবাসী জানেন। অনিয়ম না করলে তিনি মন্ত্রী হননি কেন? তিনি আমাকে বলেন, আমি নাকি পাগল ও উন্মাদ।
আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার নামোল্লেখ না করে আবদুল কাদের বলেন, ঐ নেতা আমাকে বলেন, আমার মধ্যে নাকি দায়িত্বশীলতার অভাব আছে। তার এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলেছে, তখন তিনি কী করেছেন? তিনি কি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন? এগুলো বন্ধ করেন, আমাকে কি করবেন, আমাকে মেরে ফেলবেন, বহিষ্কার করবেন, জেলে দেবেন? অসুবিধা নেই, আমি প্রস্তুত।
তিনি বলেন, আমার নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। সাম্প্রদায়িক শক্তি শেখ হাসিনাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। আমার নেত্রীকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে, দল দেখতে হচ্ছে, দেশ দেখতে হচ্ছে, দেশের শিক্ষা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ঠিক রাখতে হচ্ছে। তার কি সময় আছে নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ দেখার। এগুলো কার দায়িত্ব? কেন্দ্রীয় নেতাদের না?
আবদুল কাদের মির্জা আরো বলেন, গত পরশুদিন চট্টগ্রাম থেকে কবিরহাটে এক বাড়িতে অস্ত্র এনে রেখেছে নির্বাচন বানচাল করার জন্য। অস্ত্রধারীরা যে কোনো সময় কোম্পানীগঞ্জে ঢুকে যেতে পারে, আপনারা সাবধানে থাকবেন। যদি কোম্পানীগঞ্জে নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হয়, আমার একজন কর্মীর ওপরও হাত লাগে, যদি কোম্পানীগঞ্জে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়, কোনো মায়ের বুক খালি হয়, কারো ঘরে আগুন লাগে—এর দায় ডিসি ও এসপিকে নিতে হবে। নির্বাচনে কোনো প্রকার অনিয়ম হলে এক নম্বর আসামি হবেন ডিসি ও দুই নম্বর আসামি হবেন এসপি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন, ভোটের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, সিনিয়র নেতারা অনিয়ম করলে তাদের বিচার করতে হবে। আমি দুই জেলার ১১ জনের নাম প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছি। তারা দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছে।
আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি ৪৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেইনি। আমি গরিব স্কুল শিক্ষকের সন্তান, আমি ছেঁড়া জামাকাপড় পরে স্কুল, কলেজে লেখাপড়া করেছি।’ তিনি আরো বলেন, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটে আগামী তিন মাসের মধ্যে গ্যাস-সংযোগ দেওয়া হবে। যদি আমার এলাকার গ্যাস আমাদের দেওয়া না হয়, তাহলে জাতীয় গ্রিডে সাড়ে ৭ বিলিয়ন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেব।
