রাজধানীর কলাবাগানে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ইফতেখার ফারদিন দিহানের (১৮) বড় ভাই সুপ্ত সরকারের বিরুদ্ধেও হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। ঐ মামলার সাক্ষীরা বলছেন, টাকার বিনিময়ে মামলাটি আপস করেছেন সুপ্তর বাবা সাবেক সাবরেজিস্ট্রার আব্দুর রউফ সরকার।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দিহানেরা তিন ভাই। তাদের বাবা আব্দুুর রউফ সরকার রাজশাহী জেলার অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার রাতুগ্রাম গ্রামে তার বাড়ি। তিনি এক জন ধনাঢ্য ব্যক্তি। বড় ছেলে সুপ্তকে নিয়ে আব্দুর রউফ সরকার গ্রামে থাকেন। মা সানজিদা সরকার শিল্পীর সঙ্গে দিহান ও তার মেজো ভাই নিলয় ঢাকায় থাকেন। নিলয় একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। দিহানের স্বজনরা জানান, রাতুগ্রামের বাড়ি ছাড়াও বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে তাদের আরো একটি বাড়ি আছে। রাজশাহী শহরেও আছে দুটি বাড়ি। এর একটি সাগরপাড়া এলাকায়। আরেকটি বাড়ি নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায়। ঢাকায় রয়েছে ফ্ল্যাট। দিহানের মা শিল্পীও ঢাকায় বেপরোয়া চলাফেরা করেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই দিহান ঢাকায় থাকেন। তাই তার সম্পর্কে গ্রামের মানুষের ধারণা কম। তবে তার বড় ভাই সুপ্ত মাদকাসক্ত। ২০০৯ সালেই তার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেই মামলার আপস করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুপ্তর মৃত স্ত্রীর নাম রুনা খাতুন। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। আর নানির বাড়ি রাজশাহী নগরীর হোসনীগঞ্জ মহল্লায়। রাজশাহীতেই সুপ্তর সঙ্গে তার পরিচয়। এরপর বিয়ে। এর কিছুদিন পরই সুপ্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রুনার মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে রুনার মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছিলেন। আর ঐ সময় আসামিদের শাস্তির দাবিতে রুনার লাশ নিয়ে রাজশাহী শহরে মিছিলও হয়েছিল।
রুনার নানির বাড়ির এলাকার এক নারী ঐ হত্যা মামলার সাক্ষী। শুক্রবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই রুনাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। শেষে তার মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। পরে রুনাকে রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তির দুই দিন পর তিনি মারা যান।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার গ্রুপ স্টাডির কথা বলে ডেকে নিয়ে ‘ও’ লেভেলের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সুপ্তর ভাই দিহান। তাকে একমাত্র আসামি করে মেয়েটির বাবা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
